বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈদে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছে বিদ্যুৎ বিভাগ

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে নিরবিচ্ছিন্ন থাকে সেই লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। উৎপাদন থেকে শুরু করে সঞ্চালন ও বিতরণ—তিনটি স্তরেই ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখা হয়েছে এবং জরুরি মেরামতের জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ জানিয়েছেন, ঈদকালীন সময়ে জনগণের অচলতার যাতে কোনো ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি সরাসরি মনিটর করা হচ্ছে।

ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির সময় গ্রাহকদের সুবিধা বজায় রাখতে অতিরিক্ত তদারকি চালানো হবে। সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধি বা থাকা-চলাচলের কারণে যে কোনো বিভ্রাট দ্রুত নিরসনের জন্য মাঠে রাখা থাকবে প্রকৌশলী, লাইনম্যান ও কারিগরি টিম।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময়ে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা সক্রিয় রাখা হয়েছে। জাতীয় গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বাসস জানিয়েছেন, অফিস-আদালত ও অনেক শিল্পকারখানার বন্ধ থাকার কারণে ঈদে চাহিদা সাধারণত কমে যায়; বৃষ্টি হলে তা আরও কমতে পারে। তার মতে, ঈদের সময়ে দেশজোড়া চাহিদা আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে। কিছু ইউনিট নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে হেভি ফুয়েল অয়েল/ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো হবে। সরকারের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকায় সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সম্ভব হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালাচ্ছে। পিডিবির চারটি জোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অবস্থান থাকতে বলা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে কোনো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দ্রুত মেরামত করা যায়।

আগেই ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অফিস-কারখানার চাপ কমায় আবাসিক এলাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে বলে বিভাগের অনুমান।

ঈদের আগে ও পরে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেলেই দ্রুত সমাধানের জন্য মাঠ পর্যায়ে টেকনিক্যাল টিম মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, তারা নিজের কর্মস্থল কিংবা ছুটির এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন এবং একটি প্রতিবেদন সচিব বরাবর প্রেরণ করবেন।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নিজেদের এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের অনুরোধ করেছে—অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিহার করুন এবং প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীরা আগেভাগে রিচার্জ সম্পন্ন করে নিন, যাতে কোনো অনাকাঙ্খিত সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।

সূত্র: বাসস