বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা

মুসলমান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা আজ বৃহস্পতিবার উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সারাদেশে মুসল্লিরা নামাজে অংশগ্রহণ করবেন; জামাত শেষে সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করা হবে এবং আপনজনদের স্মরণে কবরস্থানে গিয়ে তাদের মাগফিরাত কামনা করা হবে।

ঈদের আগমনী দিনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খুলনা সিটির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ পৃথকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সরকারি নির্দেশনায় দেশে দীর্ঘকালীন ছুটি চলছে; তা সোমবার থেকে শুরু হয়ে ৩১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল এবং ১ জুন (রোববার) থেকে সরকারি, আধা-সরকারি ও বিভিন্ন অফিসে পুনরায় কাজ শুরু হবে। সংবাদপত্রগুলোর ছুটি নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ঘোষণা করেছে।

ঈদুল আযহার ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর ত্যাগ ও আনুগত্যের ঘটনা স্মरणীয়। প্রিয় অলকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর পুত্রকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিলেও পরম করুণাময়ের দরুণ হযরত ইসমাইলের বদলে একটি প্রাণী কোরবানি হিসেবে উপস্থিত হয়—এই ঘটনাকে স্মরণ করে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্বের মুসলিমরা পশু কোরবানি করে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করেন।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোরবানি আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য ফরজ। কোরবানির মাধ্যমে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার আদর্শ প্রতিষ্ঠা পায়; তাই ঈদের দিন প্রাণী জবাই ও মাংস বণ্টন ধর্মীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে একভাগ পরিবারের জন্য, একভাগ আত্মীয়-বন্ধু ও প্রতিবেশীর জন্য এবং একভাগ গরীব-দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করার পরামর্শ রয়েছে। চামড়া বিক্রয়ের আয়ের যথাযথ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে যাতে এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ প্রয়োজনমন্দরা ন্যায্য মূল্য পায়।

খুলনা মহল:

খুলনায় ঈদুল আযহার ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুলনা টাউন জামে মসজিদে তিনটি প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়। সকাল সাড়ে সাতটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে; প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, যেখানে খতিব মুফতি ইমরান উল্লাহ ইমামতি করবেন এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়, যেখানে ইমাম হাফেজ জাকির হোসেন ইমামতি করবেন। কেসিসির ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে ঈদের জামাত আয়োজন করা হবে; অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটি অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বৃহস্পতিবার সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে; জামাত শেষে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেওয়া হবে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণেও সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন।

অন্যান্য কর্মসূচি ও নিরাপত্তা:

ঈদের দিন সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে জাতীয় পতাকা যথাযথ রঙ ও মাপে উত্তোলন করে সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো হবে। নগরীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘ঈদ মুবারক’ লেখা ব্যানার ও জাতীয় পতাকা স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, শিশু-কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফ হোম ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাদ্য পরিবেশনের আয়োজন থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদুল আযহার গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও চলাচলের বিধি:

ঈদ উদযাপনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নগর ও বাইরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। আতশবাজি ও পটকা ফাটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক/ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং অসাবধানে মোটরসাইকেলে ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিষিদ্ধ থাকবে। রাতের সময়ে নদীতে পণ্যবাহী/বালুবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত রাখা হবে; বিশেষত ২৭ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং স্পীডবোট চলাচলও সীমিত থাকবে। সড়কে খোলা পিকআপ/ট্রাকে উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা না যেন—এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানির ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের টহল জোরদার থাকবে; ইভটিজিং ও দুর্ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে বাসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক ইত্যাদির নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ রয়েছে।

পশু জবাই ও পরিবেশগত নির্দেশনা:

পশু জবাইয়ের সময় পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দ্রুতভাবে স্থলটি পরিষ্কার করতে হবে; কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা যাবে না। পরিবেশ দূষণ রোধে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করা ও চামড়া ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত মূল্যে করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কোরবানির পশুর চামড়া ঠিকভাবে ছাড়ানো ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বাজারকে কেন্দ্র করে গুজব ও তথ্য বিভ্রাট প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে হবে।

মीडिया ও স্থানীয় আয়োজন:

বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ ঈদ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

ঈদুল আযহা উপলক্ষে জনজীবনে শৃঙ্খলা ও সুশৃঙ্খলতা বজায় রেখে সমগ্র সমাজে আনন্দ-শান্তি ও সহযোগিতার বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঈদের আনন্দে সবাই নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং সহমর্মিতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করুন—ঈদ মোবারক।