খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেছেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে হলে অদম্য দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মনোভাব থাকতে হবে। ছাত্রদল থেকে যারা কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা বিএনপির রাজনীতি ও নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। আজকের ছাত্ররাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে—এই বিশ্বাস ব্যক্ত করে তিনি ছাত্রদলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ২৪’ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম, মাগুরার মেহেদী হাসান রাব্বি, ঢাকার আরিফুর রহমান রাসেলসহ সারাদেশে ছাত্রদলের অন্তত ১৪৪ জন শহীদ হয়ে প্রমাণ করেছেন যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছাত্রদলের ভূমিকা অতুলনীয়। তাই ছাত্রদলের দায়িত্ব কখনো শেষ হয়নি; এখনো সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দলের দক্ষ উত্তরসূরী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শক্তিশালী করা জরুরি — এছাড়া দেশ ও দলের স্বার্থে কোনো বিকল্প নেই, বলেন তিনি।
এই বক্তব্য দেন আমীর এজাজ খান খুলনা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। কর্মসূচিটি সপ্তাহব্যাপী আহ্বানের অংশ হিসেবে সংগঠিত হয় এবং সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে রক্তদানের পূর্বে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান আরও স্মরণ করে বলেন, ৩০ মে জাতীয় ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন; ১৯৮১ সালের ৩০ মে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিসংগ্রামের সময় দিশাহীন বাঙালি জাতির সামনে শহীদ জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, নিজে রণাঙ্গনে বীরত্ব দেখান এবং জেড ফোর্স (Z Force) গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। একজন সেক্টর কমান্ডার ও পরে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অটল ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, খুলনা জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে দলীয় গ্রুপিং কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিটি ইউনিট শক্তিশালী করতে হবে। যখন সংগঠন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকে তখনও সংগঠনকে দুর্বল হতে দেওয়া যায় না—এই মনোভাবকে নিয়েই বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাবছর ঘরগঠন ও সংগঠনের শক্তিকরণে কাজ করে চলেছেন।
বাপ্পী আরও সতর্ক করেন যে ফ্যাসিবাদ পতিত হলেও ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সম্ভাবনা থাকে এবং মৌলবাদী গোষ্ঠী ও বিভ্রান্তিকর রাজনীতি দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। তাই ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ থাকে, দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করে দেশের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি শহীদ জিয়াকে স্মরণ করে বলেন, তিনি শুধু একজন সফল সৈনিক ছিলেন না, একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর জীবনের বড় বৈশিষ্ট্য ছিল সততা ও দেশপ্রেম; প্রেসিডেন্ট থাকেও তিনি দুর্নীতিমুক্ত জীবন-যাপনকারী ছিলেন। আজকের দিনে শুধু স্মৃতিচারণ নয়, তার আদর্শ, সততা ও সাহসিকতা বুকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি হবে, বলেন বাপ্পী।
অনুষ্ঠানটি খুলনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ আবু জাফরের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য কেএম আশরাফুল আলম নান্নু, দাকোপ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌরসভার সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাকসুদ আলম, ইমতিয়াজ আলী সুজন, কাজী রিয়াজুল ইসলাম বাবু, মোস্তাক আহমেদ, সম্মানিত সদস্য বিএম সাজেদ হোসেন সজল, ইয়াসির আরাফাত, সাব্বির আলম বাবু, ছাত্রদল নেতা সোহান মোল্ল্যা, কাজী জাকারিয়া, সংগ্রাম মাদবর, রাতুল ঢালী, মেহেদী হাসান, আব্দুল্লাহ, বায়েজিদ বিশ্বাস, রাহাদ হোসেন, শুভ মোড়ল, মুক্তাদির, ওসমান গনি, তসলিম হাসান নাঈম, সিয়াম, সাইমন ও রাজ্জাক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।





