বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মাজার দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হলো

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার শরীফের দিঘি থেকে থাকা কুমিরটিকে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ একটি দল দিঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটিকে ধরার পর গাড়িতে করে খুলনায় পাঠায়।

বন বিভাগ জানায়, কুমিরটিকে প্রথমে কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পর্যবেক্ষণের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে কুমিরটি সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।

কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মাজার শরণার্থীদের ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। মঙ্গলবার রাত দশটায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন একটি জরুরি সভা করে এবং বুধবার দুপুরেই বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল কার্যক্রম শুরু করে।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১ জুন) রাতে, মাজার শরীফের দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারকে কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। প্রতিবন্ধী মাকে সঙ্গে নিয়ে থাকা ফাতেমার লাশ সোমবার সকালে ভাসমান অবস্থায় মাজার শরীফের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আন্দোলন ও নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল একই দিঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর প্রাণ হারায়। এসব ঘটনা ও সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণে জেলা প্রশাসন কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বুধবার ভোর থেকেই ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল নেমে কুমিরের খোঁজ করে। দুপুর ১২টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটিকে ধরা সম্ভব হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, দিঘির দুটি ঘাটে নিরাপত্তার বেষ্টনী (ফেন্সিং) না করা পর্যন্ত কুমিরটিকে খুলনায় রাখা হবে। পরবর্তী কর্মকাণ্ডে করমজল প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করে, প্রয়োজনগত болғанে পরে কুমিরটিকে ফের দিঘিতে আনা হতে পারে।

খানজাহান আলী মাজার দিঘির কুমিরকে ঘিরে স্থানীয় ইতিহাস ও লোককথা দীর্ঘকাল ধরে বিস্তার লাভ করেছে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে মাজারের সামনে খননকৃত দিঘির সুপেয় মিঠা পানি রক্ষার উদ্দেশ্যে মিঠাপানি প্রজাতির কুমির রাখা হয়েছিল; তখনকার যুগে এক জোড়া কুমিরের নাম রাখা হয় ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’। পরবর্তী প্রজন্মের কুমিররাও ঐ নামেই পরিচিত ছিল।

তবে গত কয়েক বছরে কুমিরদের সংখ্যা কমে এসে বর্তমানে দিঘিতে মাত্র একটিই কুমির ছিল। ইতিহাস-ঐতিহ্যের এই নিরবচ্ছিন্ন সূত্র এবার ভেঙে গেছে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তকরণ এবং পর্যটক-ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং বন বিভাগ মাজার শরীফ ও দিঘি এলাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।