রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নব্বই বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ, নাতিকে শুনানির জন্য থানায় ডাকা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে নব্বই বছরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ সরকারকে নিয়ে প্রতিপক্ষের অভিযোগ দায়ের হওয়ায় শুনানীর জন্য তাঁর নাতি কলেজছাত্র জয় সরকারকে (২২) থানায় ডাকা হয়েছে। অভিযোগের কথাটি তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। শুনানিটি থানা গোলঘরে রোববার (৭ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার নয়, শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জয় সরকার সাংবাদিকদের বলেন, তার দাদু ২৬ বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেছেন এবং এখন বয়স নিকটে ৯০ বছর। তিনি একা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না ও কানেও কম শোনেন। তারা উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের রানাপাড়া গ্রামে বসবাস করেন।

জয় আরও বলেন, প্রতিবেশী দীনেশ রায় (৫৫) সম্প্রতি তার দাদুর নামে একটি মিথ্যা মামলা করেছেন। দীনেশ অভিযোগ করেছেন যে প্রায় ২০ বছর আগে তার দাদুকে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা নেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষ্যে দীনেশ কোনো স্বাক্ষী বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এ অভিযোগের ভিত্তিতে চিতলমারী থানার এএসআই সজল কুমার রায় তাদের বাড়িতে গিয়েছেন এবং শুনানীর জন্য ৭ জুন বিকেলে থানায় হাজির হতে বলেছেন।

অসুস্থ শৈলেন্দ্র নাথ সরকার কাঁপা কণ্ঠে জানিয়েছে, ‘‘প্রায় বিশ বছর আগে আমি প্রতিবেশী দীনেশ রায়ের কাছে ৭ হাজার টাকায় ১৮ কাঠা জমি বন্ধক রেখেছিলাম। ২০১১ সালে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দীনেশের দাবি নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক করেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওই ১৮ কাঠা জমিতে আমি ভোগদখল করে আসছি।’’

চিতলমারী থানার এএসআই সজল কুমার রায় বলেন, ‘‘দীনেশ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শৈলেন্দ্র নাথ সরকারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি চলাচলে অক্ষম থাকায় তার নাতি জয় সরকারকে শুনানীর জন্য ৭ জুন বিকেলে থানায় লোকজন নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।’’

তবে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এখন ছুটিতে আছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তিনি এএসআইকে জানিয়েছেন বাদী দীনেশকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে স্মরণ করানো হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা গেছে এবং শুনানী শেষে মামলার আইনানুগ کارروাই কী হবে তা নিয়ে মানুষ নজর রাখছে।