রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় শাশুড়ি ও দুই সন্তান হত্যায় স্বীকারোক্তি দিলেন সৎবাবা রফিকুল

খুলনার সোনাডাঙ্গায় শাশুড়ি ও দুই শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তাদের সৎবাবা ও মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার। শনিবার (৬ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদুজ্জামানের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালত থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব-৬ বৃহস্পতিবার সকালেই বরিশালের কাশিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশওসি (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল জানান, ঘটনার আগে অনৈতিক দৃশ্য ও পারিবারিক কলহ ছিল। ঈদের রাতে মেরী বেগমের মা রাগ করে রফিকুলকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরের দিন শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রফিকুল পুনরায় বাড়িতে ফিরে যান। মেইন গেট ও ঘরের দরজা খোলা ছিল।

ওসি অনিমেষ জানান, রফিকুল ঘরে ঢুকলে শাশুড়ি বেবী বেগম তাকে দেখতে শুরু করেন এবং গালাগালি করেন। ওই মুহূর্তে রফিকুল তাকে ঠেলে ঘরের ভেতরে ফেলে এবং শাশুড়ির গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ঘটনা একজন শিশুর, শামীমের, খেয়াল করে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। শামীমের চিৎকারে ঘুম থেকে জেগে পড়া মুস্তাকিমকে রফিকুল ট্রাংকের ওপর রাখা পায়জামা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা দাবি করা হয়।

পুলিশ বলছে, রফিকুল নিহতদের লাশ লুকিয়ে রাখেন—শাশুড়ির লাশ খাটের নিচে, শামীমের লাশ ট্রাংকের ওপর এবং মুস্তাকিমকে একটি ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে গোপন করে তালা দিয়ে রাখা হয়। পরে ঘটনার পর মেরী বেগম ঘুম থেকে উঠে ঘরবন্ধ দেখেন। ভেতর থেকে অনেকবার দরজা ধাক্কা দিয়ে রফিকুল দরজা খুলে দেন। মেরী তার মা ও ছেলে খুঁজতে থাকেন; তখন রফিকুল জানায় শাশুড়ি বাড়ি ছাড়ে গেছেন। দুপুরে একই বাড়িতে তারা একসাথে খাওয়া-দাওয়া করেন। পরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ আসলে তালা কাটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; তখন রফিকুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তিনি প্রথমে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যান, সেখানে দৌলতপুর ও ফুলবাড়ি গেটে কিছুক্ষণ অবস্থান করে রাতের দিকে খুলনা ছাড়ে এবং বরিশালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

র‌্যাব-৬’র সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুপুরে থানায় হস্তান্তর করেন। তদন্তে রফিকুল প্রথমে নিজের দোষ অস্বীকার করেন, পরে রাতে দোষ স্বীকার করে এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে অনুরোধ করেন। মামলাটি তদন্তাধীন এবং আরও বিস্তারিত আইনগত প্রক্রিয়া চলবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।