রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান দিলেন ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিশু নির্যাতন প্রতিহত করতে একটি সমন্বিত ‘‘জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স’’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমস্যা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সমাধানযোগ্য নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

শনিবার (৬ জুন) শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের কনফারেন্স রুমে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আয়োজিত ‘‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সংলাপে তিনি আরও বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের যৌথ দায়িত্ব—কথায় নয়, কাজে তা প্রমাণ করতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশু নির্যাতন একটি গভীর সামাজিক ব্যাধি; এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে বিদ্যমান আইন, নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো মূল্যায়ন করা জরুরি। তিনি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ও টেকসই কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব হলো শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তিনি বলেন, রামিসার মতো নির্মম ঘটনায় দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে শিশুরা শারীরিক, মানসিক ও অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার জোরদারকরণ, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং শিশু অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এই সব মিলেই নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্যাতিতরা ন্যায়বিচার পায় এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানটি নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, রামিসার বাবা, নারী ও শিশু অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিগণ, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আইনগত সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, অনলাইন নিরাপত্তা এবং নির্যাতিতদের পুনর্বাসনসহ বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। উপস্থিতরা এক জোরালো বার্তা দেন—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেই একটি নিরাপদ ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব।