মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়াল; হুতিরা ইসরায়েলি নৌযান নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো

ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় লোহিত সাগর এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংঘাত ছড়াতে দেখা গেছে, একদিন আগে এমন সম্ভাব্য বিস্তারের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই। সোমবার পরিস্থিতি সে আশঙ্কা আরো প্রকট করে তুলে ধরল যখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জড়ানো এবং লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করার ঘোষণা দিয়েছে।

এই ঘোষণা ছিল উদ্বেগজনক কারণ লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথ—বাব এল-মান্দেব প্রণালি—এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনে একটি ছড়ি-সর্টিং পয়েন্ট। হরমুজ প্রণালির পর এই অঞ্চলে যুদ্ধ পাকানোর হুমকি দক্ষিণ ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার নৌপথেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এএফপি জানিয়েছে, ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি জানিয়েছে এবং লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌযান চলাচল “সম্পূর্ণ ও সামগ্রিকভাবে” বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

হুতিদের বিবৃতিতে তারা বলেছে, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের’ সাধারণ মানুষের ওপর যে অন্যায় অবরোধ চাপানো হচ্ছে, সেটার সামনে তারা নিশ্চুপ থাকবেন না। হুতির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বাধার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হুতিরা ইতোমধ্যেই ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র দূরত্বে ছোড়েছে; প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থল বলা হয়নি। আল জাজিরা ওই হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে জাফা অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছে। একই সময় টিওআই ও অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতির কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, সোমবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশিরভাগ তারা ভূপাতিত করেছে এবং পশ্চিম তীরে যে ক্ষতি দেখা গেছে, তা সম্ভবত প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে হয়েছে।

এর আগের দিনই, ইরানের সেনা উপদেষ্টা মহসেন রেজাই সতর্ক করেছিলেন যে সামরিক অভিযান সম্ভবত কেবল পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা হরমুজ প্রণালি থেকে ভারত মহাসাগর, বাব এল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি বলেছিলেন। তার এই বক্তব্য এখন বাস্তবে যে আশঙ্কাগুলো উস্কে দিয়েছে, সেগুলো সোমবারের ঘটনার পর আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের উপর বর্তমান অগ্রসর পরিস্থিতি সতর্ক করে দিয়েছে—যদি উত্তেজনা আরো বাড়ে, তা হলে কৌশলগত এই প্রণালিগুলোতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাহতির সম্ভাবনা রয়েছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।