মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের দাবি: ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে—এই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মধ্যেই তিনি শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কথা বলেছেন।

সোমবার (৮ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, তেহরান ও তেল আবিব এখনই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, কিন্তু চলমান হামলা-প্রতিহামলা নাজুক সমঝোতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনাগুলো চলছে এবং যদি ‘‘অজ্ঞতা বা ভুল সিদ্ধান্ত’’ না এসে বাধা না দেয়, তবে একটি স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবরোধ ও চাপ প্রয়োগের ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আলোচনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে এবং ঝুঁকিভিত্তিক পরিস্থিতি এড়িয়ে স্থিতিশীল সমাধানে পৌঁছানো যাবে।

সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে; তবে বর্তমানে সেই চুক্তি বাস্তবে রূপ নেয়নি। এর আগে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উভয় পক্ষকে ‘গোলাগুলি বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে (এনবিসি নিউজকে) তিনি আরও বলেন, চুক্তির ক্ষেত্রে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার ও ধ্বংসে সহযোগিতা করবে। ট্রাম্প জানান, যদি তিনি তেহরানের সঙ্গে তিন মাসব্যাপী চলা সহিংসতা শেষ করে একটি চুক্তি করতে পারেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ওই উপাদানগুলো নিরাপদে সংগ্রহ ও ধ্বংসে সহায়তা করবে।

তবে ট্রাম্প সতর্ক করেও দিয়েছেন যে কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করতে শক্ত পদক্ষেপ নেবেন, যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ওই উপাদান নিরাপদে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত, এবং আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কিনা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো এই প্রক্রিয়ার দিকে কড়া নজর রাখছে।