অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে রয়েছে।
মঙ্গলবার, ৯ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য জানান। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সভাপতিত্ব করেন।
প্রশ্নে আবুল কালাম জানতে চেয়েছিলেন যে, আমদানী নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার পরও কি ডলারের পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না এবং বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বাড়ছে কি না। তিনি ঘাটতি কমাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সরকারের অন্যান্য কোনো উদ্যোগ আছে কি তাও জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে সেইভাবে সঠিক নয়। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আসছে। তিনি বলেন, আমদানি ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী আয়কে বৈধ চ্যানেলে বাড়ানো, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিকরণ, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা—all এসবই সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আমদানি নিয়ন্ত্রণই সরকারের একমাত্র কৌশল নয়। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বল্পসুদী ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করলেও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প ও রপ্তানিখাতের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানি যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক। সরকারের লক্ষ্য বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো, রিজার্ভ জোরদার করা, বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য টেকসইভাবে উন্নত করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এক মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে টাকার হারের رسمی পরিমাপ ছিল ৳১২২.৩০। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় আছে এবং এখনও এক ডলারের বিনিময় হার প্রায় ৳১২২–১২৩-এর মধ্যে রয়েছে।





