সরকার দেশের চারটি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর এই চারটি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের ঘোষণা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি এই তথ্য জানিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাই বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা হবে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল শীঘ্রই চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ওই বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪,০০০ বর্গমিটার এলাকায় দ্রুতগতিতে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে।
পর্যটন ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৃহৎ পর্যটন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ খাতে পর্যটক আকর্ষণ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হবে, যা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে গতিশীলতা আনবে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের আঞ্চলিক ভূমিকা জোরদার হবে, পর্যটন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





