সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লিটন-মোসাদ্দেকের অর্ধশতক, বাংলাদেশ সংগ্রহ ২৭৪

টপঅর্ডারের ধাবিত ব্যাটিং বাংলাদেশের নতুন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে সেই সমস্যা ফের দেখা গেল—প্রথম ওভারের ভিতরেই থাকা ঝটিকা উইকেটে দারুণ চাপ তৈরি করে। ম্যাচের শুরুতেই তিন উইকেট পড়ে গেলে ৬১ রানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন মনে হচ্ছিল।

তবে সংকটকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে মোকাবিলা করে ইনিংস ঘুরিয়ে তোলেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাদের সংযুক্ত অর্ধশতক ও কনসিস্টেন্ট ব্যাটিংয়ের ফলে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়—অস্ট্রেলিয়ার সামনে জিততে হলে ২৭৫ রানের লক্ষ্য রেখে।

মিরপুরে টস জিতে একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে নামলেও শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় মাত্র ২ রানেই ফিরেন সৌম্য সরকার—টানা দ্বিতীয় ম্যাচে আবার প্রথম ওভারেই উইকেট হারানো দেখল বাংলাদেশ। সৌম্যের বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে ইনিংস গড়া চেষ্টা করেন এবং একটি ৫১ রানের জুটি গড়লেও বড় অনুষঙ্গ বজায় রাখতে পারেননি। তামিম ১৯ রানে আউট হন, এরপর শান্তও ৫০ বল খেলে ২৪ রানে ফেরেন—তারই ফল ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো এবং একবারে চাপে পড়ে যাওয়া।

এই সংকট মুহূর্তে দাঁত টেবলে দাঁড়ান লিটন এবং তাওহীদ। তারা মিলে গড়ে তোলেন মূল্যবান ৯২ রানের জুটি। শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকেন লিটন, আর অন্য প্রান্তে তাওহীদও আত্মবিশ্বাসীভাবে খেলেন এবং সুযোগ পেলে নিয়মিত বাউন্ডারি তুলে চাপ কমান।

কিন্তু লিটনের ইনিংস রুদ্ধ হয় চোটের কারণে—ব 개인ি ৪৮ রানেই পায়ের পেশিতে টান অনুভব করে মাঠ ছাড়েন। মিরপুরের উইকেটে আগে কখনো ওয়ানডে ফিফটি পাওয়া হয়নি তার; এমন পরিস্থিতি ভাবায় আক্ষেপ। শর্তসাপেক্ষে লিটন পরে ফিরে এসে ইনিংসের শেষগুলিতে নামTEGR এবং ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রানের এক চালিয়ে নিজের বহু প্রতীক্ষিত মিরপুর ফিফটি পূরণ করেন—এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক এবং মিরপুরে প্রথম।

লিটনের অনুপস্থিতিতে মোসাদ্দেক সৈকত ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নামে এবং তাওহীদের সঙ্গে মিলিয়ে ইনিংস আগাতে রাখে। তাওহীদ ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৩তম ফিফটি পূর্ণ করেন; পরবর্তীতে ৮৩ রানে আউট হলেও তার ইনিংস দলকে বড় সংগ্রহ গঠনে মজবুত ভিত্তি দেয়। মোসাদ্দেকও খুব ইতিবাচক ছিলেন—মাত্র ৪৩ বল খেলেই তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক; এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি এবং চলতি সিরিজে দ্বিতীয়।

মাঝে শেখ মেহেদী ছোট ইনিংস খেললেও শেষদিকে দলের কোনো বড় ধাক্কা খেতে হয়নি। অবশেষে লিটন ও মোসাদ্দেক অপরাজিত থেকে দলীয় সংগ্রহকে ২৭৪ পর্যন্ত নিয়ে যান—লিটন ৫৮* ও মোসাদ্দেক ৫৬* রানে অপরাজিত থাকেন।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশো দুটি করে উইকেট নেন এবং বেন ডয়ারশুইস একটি উইকেট শিকার করেন। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে এবারের ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টার্গেটে পরিণত হয়েছে।