টপঅর্ডারের প্রথমির্দিষ্ট ধস যেন বাংলাদেশের জন্য নিয়মে পরিণত হচ্ছে—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে সেই ধারাবাহিকতা ভাঙানো গেল না। প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর ধাক্কার পর মাত্র ৬১ রানে তিন উইকেট খোয়ায় স্বাগতিকরা বিপদের মুখে পড়ে। কিন্তু ক্রমান্বয়ে দলের তোলপাড় সামলে তীর্যক অবস্থা থেকে বের করে দেন লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাদের দুই-তিন জনের দারুণ ইনিংসে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২৭৪ সংগ্রহ করে—অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ২৭৫।
মিরপুরে টস জেতে দলে একাধিক পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ। শুরুটা কেমন নিপুণ হয়নি—দলীয় মাত্র ২ রানেই ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার। সৌম্যর বিদায়ের পর ব্যাট হাতে নামেন তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত; তারা প্রথম ধাক্কা সামাল দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ম্যাট রেনশোর বাউন্সে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ১৯ রানে তুলে নেন তামিমকে, আর তানিমের বিদায়ে ভাঙে ৫১ রানের জুটি।
এরপর শান্তও একই পথে—সুইপ খেলতে গিয়ে ৫০ বল খেলে ২৪ রানে ফিরেন অধিনায়ক। মাত্র ৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের রানতালিকা বিপদসীমার নিকটে চলে আসে। তখনই হাল ধরেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়; দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৯২ রান জুটি, যা দলের উৎকট পরিস্থিতি থেকে ওঠাতে বড় ভূমিকা রাখে।
শুরুতে সময় নিয়ে খেলতেন লিটন, ধীরে ধীরে গতি বাড়াতে থাকেন এবং হৃদয়ও নিজফর্মে আত্মবিশ্বাস দেখান। হঠাৎ ব্যক্তিগত ৪৮ রানে পায়ের পেশিতে চোট অনুভব করলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিটন; তখন মিরপুরে ওয়ানডেতে অর্ধশতকের দেখা হয়নি তার কাছে। লিটনের অবর্তমানে ক্রিজে এসে মোসাদ্দেক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে এবং তাওহিদকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস পাঠান আরও স্বাস্থ্যকর পথে।
তাওহিদ হৃদয় ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই নিজের ১৩তম ওয়ানডে ফিফটি পূরণ করেন—এটি তার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ফিফটি। ফিফটির পরে আরও ঝুঁকিপূর্ণ খেলতে গিয়ে ৮৩ রানে ফিরে গেলেও তার ইনিংসই বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়। মোসাদ্দেক শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিলেন; মাত্র ৪৩ বলেই তুলে নেন নিজের অর্ধশতক—এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি এবং চলতি সিরিজে দ্বিতীয়।
মাঝে শেখ মেহেদী মাত্র ৯ বলে ৩ করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কা খেতে হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসের শেষ দিকে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেন লিটন দাস; ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে তিনি পূরণ করেন বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। এটি তার মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতক এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম।
শেষ পর্যন্ত লিটন অপরাজিত ৫৮ ও মোসাদ্দেক অপরাজিত ৫৬ রানে থেকে দলের নির্ধারিত ৫০ ওভারের রানে দাঁড় করান ২৭৪/৫। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশো দুটি করে উইকেট নেন, আর বেন ডয়ারশুইস একটি উইকেট নেন।
এবার সিরিজ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ২৭৫—ম্যাচের দ্বিতীয় অংশে কেমন লড়ে ওঠে তারা, তা দেখাই এখন মূল মজার বিষয়।





