শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন শরিফুল ইসলাম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারে পরিণত হওয়া ব্যাটিং-বলিং লড়াইতে ৬ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। তবু ২২ বছর বয়সী কুপার কনোলির ঝড়ো সেঞ্চুরির কাছে সব কিছুকে হার মানাতে হলো বাংলাদেশের। কনোলির শানদার ১৪৯ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচও জিতে নেয় এবং টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সিরিজ শেষ করে দিলো না—বাংলাদেশের সেটাই চাওয়া ছিল, বাস্তবে সম্ভব হলো না।
মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটির সাহায্যে স্বাগতিকরা শক্ত পুঁজি গড়েছিল; লিটন অপরাজিত ৫৮, তাওহীদ ৮৩ ও সৈকত ৫৬ রানে ছিলেন অপরাজিত। তবে সেটাও যথেষ্ট ছিল না কনোলির একরত্তি যুদ্ধের সামনে।
বাংলাদেশ শুরুতেই চাপে পড়ে; প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সৌম্য সরকারকে হারানোর পর ৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে এগিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। চতুর্থ উইকেটে লিটন ও তাওহীদ ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভেতরটা তৈরি করেন। লিটন মাঠ ছেড়ে গিয়ে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করান।
অন্যদিকে হৃদয়ের ৮৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস ও মোসাদ্দেকের দ্রুতগতির অর্ধশতক মিলে বাংলাদেশ ২৭৪/৫ লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। প্রথম চার ওভারে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হয়ে সফরকারীরা তুলে নেয় ৩৮ রান। সেই চাপের মধ্যে শরিফুল এসে নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে ভাঙেন আক্রমণের ধার—এক ওভারে দুই উইকেট তুলে বাংলাদেশ কঠিন মুহূর্ত পোহান। পরে তাসকিন অ্যালেক্স ক্যারিকেও আউট করে দলকে ফেরানোর প্রত্যাশা জাগে।
কিন্তু কুপার কনোলি ধৈর্য্যের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি করে তিনি ব্যাটিংয়ের ঢাল দাঁড় করান; লাবুশেন যদিও ধীরগতিতে খেলছিলেন, কনোলি ছিলেন পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫১ বলে ফিফটি তুলে নেন এই তরুণ ওপেনার এবং এরপর আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি বাড়িয়ে ৮৭ বলে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কনোলি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১৪৯ রানে ভর করে দলকে জয় এনে দেন।
গ্রিন ২৭ করে ফেরলেও তখন পর্যন্ত ম্যাচ পুরোপুরিই অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। পরে অভিষিক্ত অলিভার পিকও প্রয়োজনীয় ২৭ রান যোগ করেন এবং দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন—অবশেষে অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য পূরণ করে ৪৯.৩ ওভারে, হাতে ছিল ৩ বল ও একটি উইকেট।
শেষদিকে একাই লড়াই করে গেলেন শরিফুল; পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে তিনি পাওয়া শুরু করেন ডাবল পদক্ষেপ—ফাইফারের পথে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট পান। তবে তার এই অনবদ্য বোলিং-দিনে যথেষ্ট সহায়তা আরেক প্রান্ত থেকে না পেয়ে বাংলাদেশ জয়ের ঘরে ফেরাতে পারেনি। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।





