বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিন দিনে ইসলামী ব্যাংককে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ (১৭ জুন) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসকে আরও ১,৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা করেছে। এ সহায়তা মিলিয়ে গত তিন দিনে দেশটির বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাঙ্কটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের চলমান তারল্যচাপ ও গ্রাহকদের লেনদেন স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যেই এই তহবিল দেওয়া হয়েছে। গত几年 ধরে ঋণ অনিয়ম, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতার কারণেই ইসলামী ব্যাংক liquidity সংকটে পড়েছে; ফলে গ্রাহকদের উত্তোলন ও দৈনন্দিন লেনদেনে চাপ তৈরি হয়।

ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি নিয়ে গত মঙ্গলবার ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম বাংলাদেশের সরকারি সরকারি ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। বৈঠকে তারা সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল—অভিযোগ রয়েছে যে অনিয়ম ও প্রভাবশালী কার্যকলাপের মাধ্যমে অধিগৃহীত শেয়ার আগের মালিকদের ফেরত দিতে হবে; না হলে ওই শেয়ারগুলো আইপিও’র মাধ্যমে সরাসরি শেয়ারবাজারে বিক্রি করে মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে হবে।

গ্রাহক ফোরাম আরও জানিয়েছে যে, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে; বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে আইন ও বিধিমালার পন্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানায়।

বৈঠকে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। গ্রাহক ফোরাম দাবি করেছে যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকটি নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। পরে এস আলম গ্রুপের প্রভাব, ব্যাপক ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে বড় আলোচনা সৃষ্টি হয়।

গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। তারপরও দীর্ঘদিনের অনিয়মের জের কাটাতে ব্যাংকটি এখনও তারল্য সংকট মোকাবিলা করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকটির শাসনব্যবস্থা প্রতিস্থাপন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটাই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার বড় চ্যালেঞ্জ।