বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোটের রায় মেনে নিন, মানুষকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না: জামায়াত আমির

জানুয়ারি ১৯৯৬-র পরিস্থিতি পুষিয়ে তুলবে, যদি গণভোটের রায় মানা না হয়—এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে মানুষ শান্ত ধরে বসে থাকবে না, বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

আজ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর। সমাবেশটি গণভোটের ফল বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিষয়গুলো তুলে ধরে ডাকা হয়।

বিএনপি সরকারকে নিশানায় রেখে শফিকুর বলেন, ‘‘আমাদের স্পষ্ট অনুরোধ—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি তা না করেন, তাহলে ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। তৎকালীনভাবে যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিল পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এবারও একই অবস্থার সৃষ্টি হবে। ভালোয় ভালোয় মেনে নিন, জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই—কেউ আমাদের উস্কানি দিবে বা হুমকি-তমকি দেবে না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের অনেকক্ষণ সুযোগ দেব না। আপনারা সময়ের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। সময় খুবই সীমিত। এই সময়ের মধ্যে যদি পরিবর্তন ঘটে আমরা অভিনন্দন জানাব, না হলে আপনাদের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’’

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করে শফিকুর বলেন, ‘‘বিরোধী দলের বাজেটবিরোধ—এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কিছু নেই। ধৈর্য হারালে দেশের ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করা হবে?’’ তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ‘‘জনগণ যখন দেখবে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে আপনি উপেক্ষা করছেন, তখন তারা বসে বসে চুপ থাকবে না।’’

সমাবেশে শফিকুর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে এসে বলেছেন, এই বাজেটে মাদক ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধী দল অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে—এটি ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এমন মন্তব্য করেনি। আমি এই ঘটনার জন্য দুঃখিত। প্রধানমন্ত্রীর এই পদ রাষ্ট্রীয়; বিশ্ববাসী তাঁর কথার মাধ্যমে বাংলাদেশের হিসাব নেয়।’’

সমাবেশের সঞ্চালনা করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক्रम)। এছাড়া বক্তৃতা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।