শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন

হরমুজ প্রণালিতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ধরা না পড়ায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে সম্মত হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী তিন কার্গো এলএনজি ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে প্রস্তাব করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি আংশিক অনুমোদন দিয়ে দুই কার্গো কেনার কথা নির্ধারণ করে।

বৈঠকে জানানো হয়, তিন কার্গো এলএনজি কেনার মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা (এআইটি-সহ)। এর মধ্যে অনুমোদিত দুই কার্গো আমদানির ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচক বলেন, হরমুজ অঞ্চল থেকে জ্বালানি আনার পথে যুদ্ধাঙ্গন ও সংলগ্ন অস্থিরতার কারণে অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তির ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রযোজ্য করে নির্ধারিত চালান সময়মতো দিতে পারছে না। ফলে দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস এবং জুলাইয়ের প্রথম দিকের জন্য দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি—কারণ এলএনজি কার্গো ক্রয়ের পর তা দেশে পৌঁছাতে ও খালাস করতে সময় লাগে। ওই কারণেই দুই কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়ে তাত্ক্ষণিক চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্য কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কোনো চালান যদি কাছাকাছি সময়ে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা গেলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো যাবে—এসব কারণে পরিস্থিতি কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচক বলেন, সরকারি তহবিলের সাশ্রয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

স্পট মার্কেট ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত সূচক ও গত কয়েক মাসের গড় দামকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংকট ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। তবুও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থায় পুনরায় পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে দিয়েছে। সরকার ন্যূনতম ব্যয়ে নিরাপদ ও ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।