সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিউনিসিয়াকে বিদায়ঘণ্টা শুনিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লো জাপান

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপান ইতিহাস গড়েছে — ৪-০ ফেরিতে তিউনিসিয়াকে বিদায়ঘণ্টা শুনিয়ে নিলো সামুরাই ব্লুরা। এমন বড় ব্যবধানের জয়ে এশিয়ার একটি দেশের হয়ে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে চার গোল করা নতুন মাইলফলক হিসেবে রইল জাপানের নামে।

ম্যাচে উদ্বোধনী বল থেকেই একের পর এক আক্রমণ সাজায় জাপান। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ২-২ ড্র করার পরে তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে এই জয়ে জাপান নকআউট পর্বের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো — এটা তাদের টানা চতুর্থ জয়ের পথে বড় পদক্ষেপ। গতকালকের ফল জাপানকে চার পয়েন্টে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে; তবে গোল ব্যবধানের কারণে ডাচরা গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে। একই সময়ে একই ম্যাচসংখ্যায় সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে।

জাপানের দ্রুততম গোলটি আসে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্টেরেইয়ে। কেইতো নাকামুরার ক্রস থেকে কাছ থেকে দাইচি কামাদা বল জালে পাঠান — এটাই চলমান টুর্নামেন্টে কামাদার দ্বিতীয় গোল। ৩১ মিনিটে আয়াসে উয়েদা দুর্দান্ত এক দূরস্ফীতি শট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে তার বাঁকানো রঙিন শট মেঝে কাঁপিয়ে দেয়।

৬৯ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জুনিয়া ইতো। উয়েদার নিখুঁত ফ্লিক পাস থেকে বল পেয়ে ইতো ঠাণ্ডা মাথায় গোলটি করেন এবং ৮৩ মিনিটে উয়েদা নিজেই দ্বিতীয়বার স্কোরশিটে নাম তোলেন — একটি নিখুঁত লুপিং হেড দিয়ে জাপানের ঐতিহাসিক চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি। উয়েদা ক্লাবে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন; ফেইনুর্দের হয়ে তিনি লিগে শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন এবং national দলে আজও তার ফর্ম দেখা গেল।

তিউনিসিয়ার জন্য পরিস্থিতিটা উদ্বেগজনক ছিল। উদ্বোধনী ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ হারের পরে কোচ পরিবর্তন করে হার্ভে রেনার্দকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, কিন্তু গতিময় ও চটপটে জাপানের আক্রমণাত্মক ফুটবল তাদের রুখে দিতে তিউনিসিয়া পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তারা উল্লেখযোগ্য গোলসংক্রান্ত সুযোগও তৈরি করতে পারেনি এবং জাপানের আক্রমণেই ম্যাচটি শেষ পর্যায়ে একদম গোলশূন্য থেকে গেল।

এই জয়ে জাপানের মুহূর্তগুলো এবং দলগত একাগ্রতা খোলা ফুটবল উপহার দিল দর্শকদের। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্রয়ের পর এই ফল তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে এবং গ্রুপের ভবিষ্যৎ রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কড়া করবে।