লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড আর অপ্রত্যাশিত কীর্তি এখন দৈনন্দিন সংবাদ মনে হলেও, তিনি প্রতিবারই দর্শককে চমকে দেওয়ার মতো কিছু করে দেখান। এবারের বিশ্বকাপে তার সামনে এমনই একটি লক্ষ্য, যা পূরণ হলে ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা হবে — এবং একই সঙ্গে ১২ বছরের পুরোনো এক রেকর্ডও ভাঙবে তিনি।
মেসি এখন তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। বিশ্বমঞ্চে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে, যা থেকে তিনি যৌথভাবে শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র একটি গোল করলে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব এককভাবে নিজের করে নেবেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি কেবল দলকে জিতিয়েই নন, সেইসঙ্গে ক্লোসার দীর্ঘদিনী রেকর্ডের দিকে ঘনিয়ে এসেছিলেন। ক্লোসা ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের অভিজ্ঞতায় চারটি বিশ্বকাপে ১৬ গোল করেছিলেন; ১২ বছর যাবৎ অটল থাকা সেই রেকর্ড এখন মেসির একটি গোলেই ভাঙবে।
তাঁর ক্লাব ও দেশের জন্য মেসির অবদান কেবল ব্যক্তিগত কীর্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন দলের নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে খেলেন, এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে যদি তিনি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে কেবল ব্যক্তিগত নয়, দলীয় স্বপ্নকেও সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন।
বয়স কেবল সংখ্যা— আলজেরিয়ার বিপক্ষের খেলা তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভাঙার ভেতরে থাকা ট্যাকনিক এখনও মেসিরই শক্তি, এবং সুযোগ পেলেই তিনি সেটি দেখাতে প্রেমীদের হতাশ করেন না।
মেসির দৃষ্টি থাকবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে সঙ্গে দলের লক্ষ্য— নকআউট পর্বে উঠার তাগিদ। সম্ভবত এটি হবে তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই তিনি আরও একবার স্বপ্নের মঞ্চে স্মরণীয় রাত উপহার দিতে চাইবেন। আর সেই রাত দেখার অপেক্ষায় রয়েছে লক্ষ লক্ষ ভক্ত; তাদের জন্য কেবল একটাই অপেক্ষা — মেসির পরবর্তী গোল।





