মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি

ফিফা বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি। আজ (সোমবার) ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পেনাল্টি মিসের পর দুইবার সুযোগ নষ্ট করলেও বিরতির আগে একটি চমৎকার গোলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে মেসি হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন এবং সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনে তার গোলসংখ্যা ১৭-এ পৌঁছে গেল। এ নয়োগ রেকর্ডে মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬) রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ বক্সে ঢুকেই ফাউলের শিকার হন। প্রথমে রেফারি পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর দেখে পরে সিদ্ধান্ত বদলায় এবং পেনাল্টি দেওয়া হয়।

অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান মেসি। যদি গোল হতো, তিনি সরাসরি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতেন। কিন্তু মেসি সেই শট পোস্টের ডান পাশে লাগিয়ে বাইরে করেন। গোলরক্ষক ঠিক দিক অনুমান করেছিলেন, তবে কণ্ঠস্বরহীন মিসে আর্জেন্টিনার শিবিরে ক্ষোভ দেখা যায়।

এরপরেও মেসির আরও দুটো বড় সুযোগ ছিল। ২১ মিনিটে তিনি বক্সে কাট-ইন করে প্রবেশ করেন, কিন্তু আলাবা পিছন থেকে বলটিতে হস্তক্ষেপ করলে বল শ্লাগারের দিকে লেগে বিপদে পরে আর্জেন্টিনা। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে কিছুটা হতাশা দেখা যায় তাদের মনে।

৩৩ মিনিটে ফের আক্রমণ থেকে ডি-বক্সের ভেতরে Fernándes-কে দেওয়া পাস শ্লাগার বাধা দিলেও ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল সরাসরি মেসির পায়ে পড়ে। মেসি অবিলম্বে শট নিলেও আলাবা সঠিক অবস্থান নিয়ে দূর্গ করে দেন।

৪০ মিনিটের কাছাকাছি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসে। বাম ফ্ল্যাং থেকে আক্রমণ শুরু করে মেসি পেনাল্টি বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই গোলেই তাঁর বিশ্বকাপ গোলের সংখ্যা ১৭-এ পৌঁছে গেল এবং ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতায় যোগ দিলেন।

মেসির এই ইনিংসে তৃতীয়বার গোল করার সুবাদে আর্জেন্টিনা ম্যাচে ৩-০য়ে এগিয়ে যায় এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলেরও বড় জয় নিশ্চিত হয়। এই গোলটি দিয়ে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে ছয় ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন — এমন কীর্তি আগে মাত্র দু’জন মহাতারা করেছেন, ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জর্জিনহো। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই মেসির এই গোলযাত্রা শুরু হয়েছিল।

ম্যাচের শেষে মেসি জানালেন, তিনি আনন্দিত হলেও টিমের পারফরম্যান্সকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর্জেন্টিনা ভক্তরা আজকের খেলায় আনন্দিত; ইতিহাসের পাতা এক নতুন নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।