মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরে চলতি বছরে মোট ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার দেশের একাধিক কারাগারে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হয়; মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজনকে মাদক পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে—যাদের মধ্যে ৪৩ জন বিদেশি নাগরিক। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাকে নির্বিকার ও বেআইনি বলেই কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিদেশি কর্মীবর্গ; অনেক ক্ষেত্রেই তারা অন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন।
অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে একটি আটক কেন্দ্রের একক ওয়ার্ডে অন্তত ৬৩ জন ইথিওপীয় নাগরিক বন্দি আছেন এবং তারা কেবল মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ওপর দিয়ে যে কোন মুহূর্তে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
চলতি বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মোট ১০০ জনের মধ্য পর্যাদেশ অনুযায়ী ৪৮ জন সৌদি, ১২ জন ইথিওপীয়, সাতজন পাকিস্তানি, ছয়জন সুদানি, চারজন ইয়েমেনি ও চারজন সিরীয় নাগরিক।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে মোট ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল; তাদের মধ্যে ২৪৩ জন মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন—অ্যামনেস্টি ১৯৯০ সালে রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে এটাই সর্বোচ্চ বর্ষীয়ান সংখ্যা বলে উল্লেখ করেছে। প্রায় তিন বছর স্থগিত রাখার পর ২০২২ সালের শেষের দিকে সৌদি আরব মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনর্বহাল করেছিল। একই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় চীন ও ইরানের পর সৌদি আরবের অবস্থান তৃতীয়।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সৌদি নীতিকে অতিরিক্ত ও বেশি-কঠোর বলে সমালোচনা করেছে এবং দেশের আধুনিকাক্ষমিক ভাবমূর্তির সঙ্গে এ বাস্তবতাকে সাংঘর্ষিকভাবে দেখেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজনীয়; এবং এই শাস্তি কেবল নিশ্চিতভাবে সব আপিল ও আইনি পথ শেষ হওয়ার পরে কার্যকরণ করা হয়।
অতীত ও সম্প্রতিক ঘটনার আলোকেই সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নীতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে, এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিন্দা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।





