শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জর্ডান ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। রোববার গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জর্ডান; আর এই ম্যাচকে নিয়েই একমাত্র খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনায় বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। দুই সুপারস্টার—এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও লিওনেল মেসি—নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাই স্কালোনি একাদশে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।

আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, মেসিকে এই ম্যাচে সীমিত সময় খেলার পরিকল্পনা আছেন স্কালোনির। তবে তিনি শুরু থেকেই খেলাবেন না কি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। নকআউট পর্বে মেসিকে ফিট রেখে অতিরিক্ত চাপ বাঁচাতে টিম ম্যানেজমেন্ট ধাপে ধাপে তাকে ব্যবহার করার ভাবনা করছে। চলমান বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে পাঁচটি গোল করে গোল্ডেন বুট দৌড়েও এগিয়ে আছেন, তাই তার নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা নিতেই এই পরিকল্পনা।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ নিয়েও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আর্জেন্টিনা। সম্প্রতি তাঁর ডান হাতের অনামিকার আঙুলে চোট লেগেছিল; যদিও তীব্র চোট নয়, সেরে ওঠার পর তিনি জর্ডান ম্যাচে খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোচিং স্টাফের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে।

নকআউট নিশ্চিত হওয়ায় একাদশে বড় বদল আসানোর কথা বলা হচ্ছে। অনেক নিয়মিত খেলোয়াড় বিশ্রাম পাবেন। রক্ষণভাগে ফিরতে পারেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, যিনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হালকা চোটের কারণে খেলতে পারেননি। নিকোলাস ওতামেনদি তার সঙ্গী হিসেবে মাঠে থাকতে পারেন; সঙ্গে দেখা যেতে পারে মার্কোস সেনেসি বা ফাকুন্দো মেদিনাকে সেন্টার ব্যাকে।

বাঁ প্রান্তে সম্ভাব্য প্রথম পছন্দ নিকোলাস তালিয়াফিকো। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে খেলতে পারেন এজেকিয়েল পালাসিওস অথবা ভ্যালেন্তিন বারকো, যারা টিমে ভারসাম্য আনতে সক্ষম। উইঙ্গার হিসেবে সুযোগ পেতে পারেন জুলিয়ানো সিমিওনে ও জিওভানি লো সেলসো—এটা বিশ্বকাপের আগে দলের কৌশলগত প্রস্তুতির থেকেও মেল খায়।

আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজের বদলে শুরুতে থাকতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। ম্যাচের কোনো পর্যায়ে সুযোগ পেতে পারেন হোসে লোপেজও। আর যদি মেসি পুরো সময় মাঠে না থাকেন, তার জায়গায় দায়িত্ব নেওয়া হতে পারে নিকোলাস পাজের উপর।

স্কালোনি ও স্টাফের মনোভাব পরিষ্কার: গ্রুপপর্ব শেষ করে এখন মূল লক্ষ্য নকআউটের জন্য তরতাজা ও ফিট একটি দল তৈরি করা। সেজন্য নিয়মিত কিছু খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখা এবং তরুণ বা ব্যাকআপদের ব্যবহার করে দলীয় ভারসাম্য পরীক্ষা করার পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে। জর্ডানের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচটি এ প্রস্তুতির একটি সুযোগ হিসেবেই দেখা হবে।