বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিন দিনে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারল বাংলাদেশ

হারারের পাঁচদিনের টেস্টে তৃতীয় দিনেই বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বে সফরকারীরা আড়াই দিনেও কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হলেও, ইনোসেন্ট কাইয়ার (Innocent Kaia) সেঞ্চুরির সাহায্যে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহ করে ৪১০ রান। সেটিই ম্যাচের ফলাফল ঠিক করে দেয়—বাঁধ ভেঙে পড়া টাইগাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস হারে পরাজিত হয়।

তৃতীয় দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ টিকে ছিল। দিনের শুরুতেই উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম রিপোর্ট তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিদায়ে সফরকারীরা পুনরায় চাপে পড়ে।

২৩০ রানের পেছনে দিয়ে শুরু করা দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ধাক্কা আসে মাহমুদুল হাসান জয়ের উইকেটে; মাত্র এক রান যোগ করে তিনি ২৩ রানে গালিতে ক্যাচ হন। এরপর মুমিনুল হকও বেশি সময় টিকতে পারেননি—ব্লেসিং মুজারাবানির বলে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রানে ফেরেন তিনি।

চতুর্থ উইকেটে নাজমুল শান্ত ও মুশফিকুর রহিম মিলিয়ে ধৈর্য ধরে খেলেন ও ৬১ রানের জুটি গড়েন, যা দলের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও তা বেশি স্থায়ী হলো না। নিউম্যান নিয়ামুরির নিচু ফুলটসে শান্ত বোল্ড হয়ে ৩০ বল খেলে ২৪ রান করে ফেরেন। অধিনায়কের বিদায়ের দুই ওভার পর মুশফিকও ব্লেসিং মুজারাবানির আঘাতে হটে যান—৬২ বল মোকাবিলা করে ৩৪ রানে স্টাম্পে নেই, উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ইনিংস শেষ করেন।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটে ১১৭ রানে ছিল; বিরতি পর তাড়াতাড়ি আরও উইকেট পড়ে। তাওহিদ হৃদয় ১৭ বল খেলে ৯ রানে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। তাইজুল ইসলাম ২৩ বল খেলেও মাত্র ৮ রানে ফিরেন; তাকে ফেরান ব্র্যাড ইভান্স। শেষের দিকে হাসান মাহমুদ ১৭ বলে ১৫ রান করেন এবং ইবাদত হোসেন ১০ বল খেলে অপ্রকাশিত ১২ রানে মিলে থাকেন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়ে মাঠ ছাড়ে বেশি ব্যবধানে; জিম্বাবুয়ের সময়ে-সিদ্ধ সাফল্য ছিল সুসংগঠিত বোলিং এবং এক অনড় সেঞ্চুরিয়ারের ভিত্তিতে।