শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তত্ত্বাবধায়কের আশ্বাসে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আন্দোলন প্রত্যাহার, কর্মচারীরা কাজে ফিরলেন

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা তত্ত্বাবধায়কের আশ্বাস পেয়ে বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর থেকে কাজ ফিরেছেন। মোট মিলিতভাবে আন্দোলন থেকে প্রত্যাহার করে তারা স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম চালু করেছেন।

আগে বুধবার (০১ জুলাই) সকাল আটটায় চাকরি বহাল ও পুনর্বহালের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের তালা লাগিয়ে সামনে করিডোরে অবস্থান করেন ওই কর্মচারীরা। রাতেও তারা সেখানে অবস্থান বজায় রাখেন। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় হাসপাতালে অন্যান্য চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক ও চিকিৎসকরা কর্মচারীদের বুঝিয়ে জানান যে হাসপাতালের সেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং জটিলতা এড়াতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আপাতত কাজে যোগদান করানো হচ্ছে না। সেই আশ্বাস দিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেন। আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মচারীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন, তবে তারা সতর্ক করে বলেন—নতুনদের যোগদান বাস্তবায়িত হলে বা পুরনো কর্মচারীদের চাকুরি থেকে বাদ দিলে পুনরায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।

আন্দোলনে সামনে থাকা কর্মচারী কার্জন শেখ বলেন, ‘‘হাসপাতালের সেবা বিপর্যয়ের আশঙ্কায় এবং তত্ত্বাবধায়কের কথায় আমরা অবস্থান প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু আমাদের পুনর্বহাল না হলে বা নতুনদের নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেব।’’

কর্মচারীরা আরও জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ভবন এবং চিকিৎসকদের কক্ষগুলো খোলা থাকলেও হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোহিতুর রহমানের কক্ষ তারা নিজেদের উদ্যোগে তালাবদ্ধ রাখবেন যতক্ষণ না পুরনো কর্মচারীদের পুনর্বহালের আদেশ লিখিতভাবে না আসে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অবসান ও জটিলতা এড়াতে নতুন নিয়োগের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় দ্রুত এসব বিষয় সমাধান করা হবে বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘‘নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আন্দোলনরতদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের দীর্ঘ দুই বছর ধরে যে সেবা আছে, সেটা বিবেচনায় রেখে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে—এই উদ্দেশ্যেই আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব এবং উর্ধ্বতনে অবহিত করা হয়েছে।’’