রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ নতুন মিলিয়নেয়ার; বৈষম্য বেশি আমিরাত-রাশিয়ায়

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএস প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’-এর সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মিলিয়নেয়ার বা ধনকুবেরের সংখ্যা বছরের পর বছর বাড়ছে — একই সঙ্গে বাড়ছে আর্থিক বৈষম্যও। এই প্রতিবেদনটি এবার প্রকাশিত হলো ১৭তম বার।

ইউবিএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত মোট সম্পদের পরিমাণ টানা তৃতীয় বছরে বেড়েছে; সারাবিশ্বে মোট সম্পদ বাড়ার হার ছিল প্রায় ১০.৮ শতাংশ — যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালের গড় বৃদ্ধির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি (ওয়েটেড অ্যাভারেজ বা ভারিত গড় হিসেবে)।

রিপোর্টে মিলিয়নেয়ার হিসেবে গণ্য হওয়ার মানদণ্ড ধরা হয়েছে মার্কিন ডলারে কমপক্ষে এক লাখ দশ হাজার নয় — অর্থাৎ এক মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি। এ হিসেব অনুযায়ী গত বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন করে মিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন; প্রায় প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬০০ জন নতুন কোটিপতি হচ্ছেন। নতুন তালিকাভুক্তদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রধান ইকবাল খান বলছেন, এই বৃদ্ধির পেছনে আছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বিভিন্ন বাজারে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগ। তবে এই সম্পদ বৃদ্ধির লাভ সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না।

রিপোর্টে দেখা গেছে, অনেক দেশের মধ্যক সম্পদ (মিডিয়ান ওয়েলথ) কমেছে; অর্থাৎ গড় সম্পদের পেছনে লুকিয়ে থাকা বৈষম্য বাড়ছে। ইউবিএস বলেছে, এখানে যে ধনীশ্রেণির লোকেরা আছে তাদের অনুপাতে মিডিয়ান হিসেবে পড়া সংখ্যাগুলো আর্থিক বাস্তবতার সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র দেয়, কারণ গড়ের ওপর অতি ধনীদের বড় প্রভাব পড়ে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অনেকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মালিকানাধীন আবাসনের মূল্য (owner-occupied property)। বাড়ির দাম বেড়েছে বলে অনেকে এই তালিকায় উঠেছেন, কিন্তু তাদের বাস্তব অর্থনৈতিক সামর্থ্য বা ব্যয়যোগ্য আয় (ডিসপোজেবল ইনকাম) অপরিবর্তিত থেকেও যেতে পারে। নথিভুক্ত লাভ তখনই তরল অর্থে পরিণত হয় যখন সেই সম্পত্তি বিক্রি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেন সম্পন্ন হয়।

অস্ট্রেলিয়া প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে, গড় মিডিয়ান সম্পদে দেশটি লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের পরে তৃতীয় স্থানে—প্রতি ব্যক্তি প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ান অর্থনীতিবিদ সল এসলেক এবিসি নিউজকে বলেন, মধ্যবিত্ত ও ধনীদের মধ্যে ফাঁক ক্রমেই বাড়ছে, তবে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের বণ্টন কিছুটা বেশি সুষম আছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গড় পারিবারিক সম্পদ মিডিয়ানের দশ গুণেরও বেশি—এটি স্পষ্ট করে দেয় কিভাবে অসাম্য বাড়ে।

অর্থনৈতিক বৈষম্য মাপার ব্যবহৃত সূচক জিনি কোএফিশিয়েন্টে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর পড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩, যা ২০২৪ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৫৫—এ থেকে বোঝা যায় গেলো সামান্য হারে বৈষম্য কমেছে। প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ৫৬টি দেশের তালিকায় অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে ৫২ নম্বরে। সবচেয়ে কম বৈষম্য দেখা গেছে স্লোভাকিয়ায়; অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য রিপোর্ট করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।

ইউবিএস রিপোর্টে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, একটি দেশ একই সঙ্গে সম্পদে সমৃদ্ধও হতে পারে এবং তীব্র বৈষম্যও বহন করতে পারে—অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়সঙ্গত সম্পদবণ্টন নয়।

রিপোর্টে লিঙ্গ বা বয়সভিত্তিক সম্পদ বণ্টন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ অতটা দেনা হয়নি; তবে হাউজিং মার্কেটের ওঠা-নামা, সুদের হার ও করনৈতিক পরিবর্তনগুলো সমগ্র ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে—উদাহরণস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আবাসনক্ষেত্রে মন্দা দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সূত্র: এসবিএস নিউজ।