রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থমন্ত্রী: বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশটি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—এমনটি অর্জনের জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও স্থির নীতি বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

শনিবার (৪ জুলাই) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর নিজ শহর চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক সক্ষমতায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—এটিই সরকারের দিকনির্দেশনা।

তিনি চট্টগ্রামের সম্ভাব্য ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই শহরে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি দেশের একটি প্রধান লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। চলতি বাজেটে চট্টগ্রামের লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, আনোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর একটি ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে এবং চীনকে নিয়ে যৌথভাবে একটি অর্থনৈতিক হাব গড়ার বিষয়ের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও লজিস্টিক হাব হিসেবে উন্নয়ন করার লক্ষ্যও বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সে সময়ে তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) ও ক্রীড়া অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের ন্যায় ভিত্তিক নীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি যোগ করেন, পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এ লক্ষ্য অর্জন আরও বাস্তবসম্মত হবে।