রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বদ্রীনাথ ধামে দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ, বিকেটিসি জরুরি তদন্তের নির্দেশ

অযোধ্যার রামমন্দির সংক্রান্ত অনৈতিকতার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরাখণ্ডের পবিত্র বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার খবরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে।

শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) শুক্রবার, ৩ জুলাই জরুরি আদেশ জারি করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট তদন্তকমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মীয় সংগঠন ‘ভৈরব সেনা’ শনিবার জনসমক্ষে এই আর্থিক অনিয়মের কথা তুলে ধরে অভিযোগ করে, মন্দির কমিটির সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ভৈরব সেনা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়।

বিকেটিসি সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী নন; তিনি শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির নিয়মিত (সরকারি) কর্মচারী এবং আগেও মন্দির কমিটির তিনজন সাবেক সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অনুসন্ধান শেষে দোষী প্রমাণিত হলে দেশের প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

কমিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সোহান সিং রাঙ্গড় জানিয়েছেন, অভিযোগ আসার পরপরই মন্দির প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে; তবে ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু ফুটেজ খুব স্পষ্ট নয়। উদ্বেগের বিষয়টির গুরুত্ব এবং লক্ষ লক্ষ ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতিকে মাথায় রেখে বিষয়টিকে মন্দির সভাপতিকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

সভাপতির নির্দেশে অভিযুক্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং গঠিত তদন্তকমিটি সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবানবন্দি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। তদন্তে যদি জালিয়াতি বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি আইন, ১৯৩৯ ও কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছে যে, ঘটনার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর মন্তব্য বা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত, যাতে কোনোভাবে ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না পৌঁছায়। তদন্ত চলছে, এবং কমিটি তদন্তের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।