মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হামাস ঘোষণা: গাজার শাসনভার ছাড়ার সিদ্ধান্ত

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস সোমবার ঘোষণা করেছে, তারা গাজা উপত্যকার শাসন কাজ দেখভালের জন্য গঠিত তার কমিটি বিলুপ্ত করে দিচ্ছে। প্রায় দুই দশক ক্ষমতায় থাকার পর এই পদক্ষেপ নিলো হামাস, যা উপত্যকার প্রশাসন পরিবর্তনের পথে একটি বড় এগিয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিটি ভেঙে দেওয়ার ফলে গাজা পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট বা পেশাদারদের নিয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি কাজভার গ্রহণে বাধাহীন হবে। হামাসের এক নির্বাহী বলেছেন, “প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসনকারী কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর মাধ্যমে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির বেসামরিক শাসন বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।”

২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহকে পরাজিত করে গাজার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাস অঞ্চলটিতে শাসন করে আসছিল। গত বছরের অক্টোবরের সংঘর্ষবিরতির পর থেকে হামাস বারবার ঘোষণা করেছে, তারা দৈনন্দিন শাসনকাজ থেকে ধাপে ধাপে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে—তবে তাদের উৎসহী ঘোষণার বিপরীতে বন্দুক এবং অস্ত্র সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো এখনও নিরসন ওঠেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হামাস কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, সংগঠনটি গাজার শাসন কমিটি বিলুপ্ত করেছে এবং একই সঙ্গে এই কমিটির কার্যক্রম তদারকির জন্য ‘‘জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য’’ এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হবে; তিনি গঠিত জাতীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত কাজ করবেন। হামাসের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, সোমবারেরই আরও পরে তারা একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করবে, কিন্তু বিবরণ দেয়নি।

হামাস আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা ফিলিস্তিনি অন্যান্য উপদলগুলোকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এবং ওই উপদলগুলো হামাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত গাজার শাসনব্যবস্থায় একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পথ আরও সুগম হয়েছে। সূত্র: এএফপি।