শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বকাপের তৃতীয় ফাইনালে মেসি: এমন কীর্তি যে কারো নেই কেবল কাফুর শরিক

আর্জেন্টিনা এখন চারবারের বিশ্বকাপ জয় ধরেই রেখেছে—টুকু দূরেই রয়েছে চতুর্থ শিরোপা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা এবার টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে এবং চার আসরে এটিই তাদের তৃতীয় ফাইনাল। ফলে মেসি খেলবেন তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে একটা বড় মাইলফলক।

আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলেই মেসি আরেকটি অনবদ্য কীর্তি গড়বেন। এই কীর্তিতে কেবল আর একজনের নাম দেখা যায়—ব্রাজিলীয় লেজেন্ড কাফু। ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কীর্তি মেসির সঙ্গেও ভাগ হয়ে যাবে কাফুর।

মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিলে; সেখানে জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হারিয়ে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। কাতারে আট বছর পরে আবারও সে ক্যারিয়ার গড়ার দিকে নামেন—সেই আসরটা শুরু হয়েছিল সৌদি আরবের কাছে হারের মধ্য দিয়ে, কিন্তু এরপর তিনি দলের সঙ্গে মিলেমিশে পারফর্ম করে অবশেষে শিরোপা জিতেছেন। ফাইনালে ফ্রান্সের সঙ্গে অত্যন্ত নাটকীয় ম্যাচে ৩-৩ গোলে সমতা হলে টাইব্রেকারে জেতা সেই মঞ্চে মেসির ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক।

চলতি বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সী মেসি যতটা অভিজ্ঞ, ততটাই আকর্ষণীয়। তিনি আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্টে ২-১ ব্যবধানে জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদি রোববার মাঠে নামেন, তবে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি কাফুর সঙ্গে একটি রেকর্ডে ভাগ বসাবেন—তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কীর্তি।

তবে মেসি কাফুর একটি রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারছেন না: কাফু ধারাবাহিকভাবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন—১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২—যেটি একটি অনন্য ধারাবাহিকতা। কাফুদের মধ্যে দ্বিতীয় ফাইনালে জয় হয়নি, কিন্তু বাকি দুইটিতে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। মেসি আর কাফু—দুই জনের নামই ফুটবল ইতিহাসে গৌরবের সঙ্গে থাকবে, আর রোববারের ম্যাচে নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে এই কাহিনীতে।