শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পিকফোর্ডের পানির বোতলে লেখা ছিল আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নির্দেশনা

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ফল নির্ধারিত হওয়ার পর উদযাপনের মুহূর্তে মাঠে এক অদ্ভুত ও মজার ঘটনা সামনে আসে। গোলপোস্টের কাছে পড়ে থাকা একটি পানির বোতল হাতে নিয়ে সেটি পরীক্ষা করে দেখেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার নিকো গঞ্জালেস—ওই বোতলটি আসলে ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের জন্য তৈরি করা বিশেষ নির্দেশিকা ছিল।

গঞ্জালেস বোতলটা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ডেকে আনেন দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। পরে সেখানে যোগ দেন ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসি ও একজন স্টাফ সদস্য। চারজন মিলে বোতলের গায়ে লাগানো ডাকটেপ খুলে নিচে থাকা কাগজখানা পরীক্ষা করেন। বাইরের দিক থেকে সাধারণ একটি পানির বোতলে মনে হলেও কাগজটিতেই ছিল টাইব্রেকারের পুরো পরিকল্পনা—আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নাম দেওয়া ছিল এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পিকফোর্ডকে কোন দিকে ঝাঁপ দিতেই হবে, সেটিও নির্দেশ করে লেখা ছিল।

নির্দেশিকায় ছিল বেশ সূক্ষ্ম-বিস্তৃত নির্দেশ। লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে বলা ছিল প্রথমেই বাঁ দিকে যাওয়ার ভান দিয়ে পরে ডান দিকে ঝাঁপ দিতে। গনসালো মন্তিয়েলকে আটকাতে পিকফোর্ডকে বাঁ দিকে ঝাঁপ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। লেয়ান্দ্রো পারেদেসের জন্য নির্দেশ ছিল সামান্য বাঁদিকে অবস্থান নিয়ে ডান দিকে ঝাঁপ দেওয়া, আর এনসো ফার্নান্দেসের বিরুদ্ধে মাঝে দাঁড়িয়ে থাকার পরামর্শ দেখানো ছিল। এমনকি আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলকিপার হেরেনিমো রুলিওর নাম ও তাঁর বিরুদ্ধে বাঁ দিকে ঝাঁপ দেওয়ার নির্দেশও তালিকায় ছিল।

তবে সব খেলোয়াড়ের সম্পর্কে তথ্য ইংল্যান্ডের বিশ্লেষকদের কাছে ছিল না। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, হুয়ান মুসো ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পেনাল্টি রেকর্ড না থাকায় তাঁদের নাম রাখা হয়নি। সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো অংশ ছিল থিয়াগো আলমাদার জন্য লেখা ছোট্ট নির্দেশ—‘যেদিকে মন চাইবে, সেদিকেই লাফ দিও।’

তথ্যগুলো থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরামর্শগুলো প্রয়োজন পরার দরকারই হলো না পিকফোর্ডের। আর্জেন্টিনা ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলেও পরবর্তী সময়ের গোলগুলো মঞ্চটাই বদলে দেয়: এনসো ফার্নান্দেস দলের জন্য খুঁজে আনেন সমতা, যোগ করা সময়ে লাউতারো Martínez-এর হেডে আসে জয়ের গোল। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এল আর্জেন্টিনা, এবং তারা শিরোপা জয়ের লড়াইতে ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে স্পেনের মুখোমুখি হবে।