শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফাইনালে কাদের পাশে গার্দিওলা: প্রিয় শিষ্য মেসি নাকি স্বদেশ স্পেন?

এক দশক ধরে দায়িত্ব পালনের পর গত জুনে ম্যানচেস্টার সিটির কোচের পদ থেকে বিদায় নেন পেপ গার্দিওলা। বর্তমানে তিনি কোনো ক্লাবের ডাগআউটে নেই এবং বিশ্বকাপেও নির্দিষ্ট কোনো দলের পাশেই দাঁড়াচ্ছেন না। তবু বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে তার মন্তব্য ছিল নজরকাড়া — যেখানে মুখোমুখি Spain (স্পেন) এবং Lionel Messi-র আর্জেন্টিনা।

আগামী রোববার দিবাগত রাতে নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলবে এই দুই দল। কোনো দলের ঘোর সমর্থক না হলেও গার্দিওলা স্পষ্ট করেন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি পুরোপুরি অনুগত নন; বরং তার ঝোঁক হচ্ছিল ব্যক্তিগত খেলোয়াড়দের প্রতি। স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমি কোনো একক দলের পক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে ছিলেন না। তবে আমার পছন্দের খেলোয়াড়রা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তাদের প্রতি আমার আলাদা টান ছিল। তাদের কাজের প্রশংসা করেছি এবং উৎসাহ দিতে পেরে আমি খুশি।’

গার্দিওলা আরও বলেন, ‘যদি আর্জেন্টিনা জিততেই পারে, সেখানে এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যাদের আমি চিনি এবং তাদের খেলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ঠিক একইভাবে ফ্রান্স বা পর্তুগালেও এমন খেলোয়াড় আছে যারা দারুণভাবে আমাকে পরাভূত করেছে।’

তবে ফাইনালের ভাগ্যের ওপর তার দেওয়ালির থেকে স্পেনই তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টারের সাবেক এই কোচ মনে করেন, ‘যদি মাঝমাঠে পেদ্রি ও রদ্রি তাদের মানের যথাযথ ভাষ্যে পৌঁছে দিতে পারে, এবং লামিনে ইয়ামাল যদি তার সেরা রূপ দেখাতে পারে, তবে স্পেন পার্থক্য তৈরি করতে সক্ষম হবে। সাম্প্রতিক ইনজুরির কারণে ইয়ামাল শরীরিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে; তবু তার তরুণ বয়স, অসাধারণ দক্ষতা আর মনোবলই তাকে একাই ম্যাচের ধারা বদলে দিতে দেবে।’

মেসি ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় নিয়ে গার্দিওলার মন্তব্য ছিল প্রাঞ্জল: ‘আর্জেন্টিনা তো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, এবং মেসি এখন সেরার মধ্যে আছে। এজন্য তাদেরই জয় অর্জনের সম্ভাবনা বড় ধরনেরভাবে বিবেচ্য—কারণ মেসি এমন একজন খেলোয়াড় যে যেকোনো পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে।’

নিজের ভবিষ্যত কোচিং ক্যারিয়ার সম্পর্কে গার্দিওলা বলেন, ‘বার্সেলোনায় আমার কোচিং শুরু হয়েছিল যখন আমার বয়স ৩৭। এখন আমি ৫৬; নতুন কিছু করার সময় এসেছে। এই মুহূর্তে আমি সন্তুষ্ট। একদিন নিশ্চয়ই আমি ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরে যাব, কিন্তু এখন আমি একটু পেছনে থেকে কাজ করতে চাই। যেখানে আমাকে প্রয়োজন হবে, সেখানে আমি প্রস্তুত থাকব।’

গার্দিওলা ম্যানসিটিতে থাকা অবস্থায় তখনকার লিভারপুল কোচ ইউর্গেন ক্লপকে তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউর্গেন আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ২০ মিনিটের মধ্যে খেলার গতি বদলে দিতে পারতেন—এটি আমাকে প্রায় পাগল করে তুলত।’

ফাইনাল নিয়ে তার নীরব সমর্থন না দিয়েও—ব্যক্তিগত খেলোয়াড়দের প্রতি যে স্নেহ ও প্রশংসা গার্দিওলাকে স্পষ্টভাবে স্পেনে ঝুঁকছে, তা বলা যায়। আর ফুটবলপ্রেমীরা এখন মূলত অপেক্ষা করছেন—খেলাধুলার সেই এক মুহূর্তের জন্য, যেখানে একজন মেসি বা একদল তরুণ স্প্যানিশ তার দলকে জয় এনে দিতে পারে।