শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাশা উল্টে মেসি—নবম ব্যালন ডি’অরের পথে

আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে লিওনেল মেসির অভিযানে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন কেবল গোল্ডেন বুটের প্রধান দাবিদারই নয়, ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেও প্রথম সারিতে উঠে এসেছেন। ক্রীড়া বিশ্লেষক এবং বুকমেকারদের সর্বশেষ মূল্যায়নে মেসিই এখন এগিয়ে আছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ২-১ জয়ে মেসির ব্যক্তিগত গোল তো বেড়েছে না, তবুও তিনি ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় ছিলেন। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোল দুটোরই অ্যাসিস্ট দিয়েছেন তিনি। সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে মেসির счет দাঁড়িয়েছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে। ফলে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতায় তিনি শীর্ষে এবং সমান গোল থাকলেও অ্যাসিস্টে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে গেছেন।

প্রেডিকশন মার্কেট ও স্পোর্টসবুকগুলোর সাম্প্রতিক রেটিং-ও মেসির পক্ষে কথা বলছে। মার্কিন ভবিষ্যদ্বাণী প্রতিষ্ঠান কালশি সূত্রে জানা যায়, গোল্ডেন বুট জেতার সম্ভাবনা মেসির ৫৯ শতাংশ। ফ্রান্স জাতীয় দলের স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেরও গোল সংখ্যায় সমতা (আট গোল) আছে, কিন্তু তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা তিনটি হওয়ায় টাইব্রেকারে মেসি এগিয়ে আছেন। তবুও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপে সুযোগ পেলে গোল বাড়িয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন—এটাই শ্রী- সম্ভাব্য কঙ্কাল।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের বাইরে নয় হ্যারি কেইনও; তবে কিংবদন্তি ইংলিশ ফরোয়ার্ডের গোল ৬ ও অ্যাসিস্ট ১ হওয়ায় তার জয়ের সম্ভাবনা অনেক কম। অনেকে কেইনের সম্ভাবনাকে +৮০০০ অডস হিসেবে দেখাচ্ছেন, যা স্পষ্ট করে দেয় যে এই পুরস্কার এখন মূলত মেসি ও এমবাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ব্যালন ডি’অর প্রতিও বিশ্বকাপের প্রভাব স্পষ্ট। বাজারে ‘অডস’ বলতে যা বোঝায়—ফুটবলারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ট্রফি ও পরিসংখ্যান বিচার করে বুকমেকাররা সম্ভাবনার তালিকা তৈরি করে—আর সেই তালিকায় মেসি এখন শীর্ষে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে এমবাপে ও কেইনের নাম বেশি শোনা যাচ্ছিল; এমনকি বার্সার তরুণ লামিনে ইয়ামাল লা লিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চোখে পড়ছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠার পর পুরো সমীকরণ বদলে গেছে। বর্তমানে মেসিকে নবম ব্যালন ডি’অর জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার ধরে নেওয়া হচ্ছে—তার অডস ধরা হয়েছে -১২৫। অন্যদিকে ইয়ামালের অডস +১৭৫ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, মূলত স্পেন ফাইনাল জিতলে ও ইয়ামাল অসাধারণ করলে তার দাবিও জোরালো হতে পারে।

ইয়ামাল সম্পর্কেও একটা বাস্তবতা আছে: ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ উইঙ্গার পুরো টুর্নামেন্টে এক গোল করেছেন এবং অ্যাসিস্ট নেই। আর মেসি সরাসরি এই টুর্নামেন্টে ১২টি গোলসংক্রান্ত কাজে অবদান রেখেছেন। তাই ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও মেসির পক্ষে বড় প্রভাব পড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায়, নকআউট পর্বে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ নির্ধারণকারী পারফরম্যান্স দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মেসির প্রভাব অন্য মাত্রায় উঠে এসেছে। তুলনায়, বিশ্বকাপজুড়ে ভাল ফর্ম দেখিয়েও এমবাপে ও কেইনের ব্যালন ডি’অরের সম্ভাবনা সেমিফাইনালে হারের পর কিছুটা কমে এসেছে—কেইনের অডস এখন +৬৫০ এবং এমবাপের +১২০০ ধরা হচ্ছে।

অন্ততপক্ষে সন্তোষজনক যে, মেসি এই পুরস্কারগুলোর ইতিহাসেও একবিন্দুতে নয়—তিনি প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০০৯ সালে এবং সর্বশেষ জিতেছিলেন ২০২৩ সালে। যদি এবার তিনি নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতে, তা হলে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (যিনি ৫বার জিতেছেন) থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেবেন। রোনালদো সর্বশেষ এই পুরস্কার জিতেছিলেন ২০১৭ সালে এবং চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগালের পারফরম্যান্সও অনেকের প্রত্যাশা অনুপাতে ছিল না।

সারকথা—ফাইনালে ওঠার পরে মেসির কেরিয়ার ও বাজার মূল্য উভয়ই নতুন ধাক্কা পেয়েছে; এখন দেখার বিষয় ফাইনাল ম্যাচে বাকিটা কি মেসির অনুকূলে ঘোরে এবং তিনি কি সত্যিই ইতিহাসে নবম ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন রেকর্ড গড়তে পারেন।