শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাড়ানোর তিন দিনের মাথায় আবার একই পরিমাণ কমল স্বর্ণের দাম

তিন দিন আগে বাড়ানোর পর আবার একই পরিমাণ কমল দেশের স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে জেলায় কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২২ ক্যারেটসহ বিভিন্ন শ্রেণির স্বর্ণের গহনার দাম হ্রাস করেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) স্বর্ণের শ냥 কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী ২২ ক্যারেট (প্রতি ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ২,২১,৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২,১১,৯৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমে ১,৮২,০৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে ১,৪৮,৭৭৪ টাকা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুলাই একই ২২ ক্যারেটের একটি ভরির গহনার দাম ২,২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তাই মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই পরিমাণ আবারও দাম কমানো হলো।

এ বছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে স্বর্ণের দাম মোট ৯০ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৪ দফায়, কমানো হয়েছে ৪৫ দফায় এবং ১ দফায় ভ্যাট সংশোধন করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে গত বছর (২০২৫) বাজারে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

রুপা (রৌপ্য) গহনাও ভ্যাটসহ নতুন দামে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমে ৪,৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ১৭৫ টাকা কমে ৪,৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১১৬ টাকা কমে ৩,৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৫৮ টাকা কমে ২,৮৫৮ টাকা করা হয়েছে।

এ বছর রুপার দাম মোট ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে—যেখানে ২৮ বার দাম বাড়ানো ও ২৮ বার দাম কমানো হয়েছে। গত বছর (২০২৫) রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি ও ৩ বার হ্রাস দেখা যায়।

বিখ্যাত বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামার প্রতিফলন; ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য বাজারে সতর্কতা রাখা জরুরি।