বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিবাহের পাঁচ দিন পরও বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’—গাজী নজরুল-মরিয়মকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এমপি গাজী নজরুল ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বললেও, একটি বায়োডাটায় ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থায় আজও ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে—যা নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, পারিবারিকভাবে ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ২২ জুন তার স্বাক্ষরসহ একটি বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে দেখা গেছে। বায়োডাটায় গাজী নজরুলের স্বাক্ষরের উপরে সবুজ কালিতে হাতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখাও রয়েছে। এই তারতম্যই ঘটনাটিকে নিয়েই বিতর্ক বাড়িয়েছে।

আরেকদিকে এই বিয়ের কাবিননামার প্রতিও হাত দেওয়া হয়েছে। কাবিননামায় উল্লেখ আছে বিয়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে সম্পন্ন হয়। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন ও বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম দেখা গেছে।

ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালালে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মরিয়ম খাতুনও একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুলই তাঁর স্বামী এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—এতে তার ও তার স্বামীর সম্মানহানি করার উদ্দেশ্য রয়েছে। মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহও বলেছেন, ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।

এই ঘটনার প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম লিখিত বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে তিনি, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা গেলে সেখানে তাঁর গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি নিয়ে কক্ষে ঢুকে তাদের জিম্মি করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় একটি লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরবর্তীতে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া ওবায়দুল্লাহ গোপনে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভিডিওটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

গাজী নজরুল দাবি করেছেন, তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই ১৭ জুন বিয়ে হয়েছে এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

তবে বিয়ের তারিখ, কাবিননামা ও ২২ জুনের বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকার এই তফাৎ নিয়ে বিতর্ক চলতেই আছে। এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো দিক থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।