নগরীর জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা কৌশল প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ‘‘ভূমি ব্যবহার, আবাসন ও উন্মুক্ত স্থান’’ শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালা বুধবার (গতকাল মঙ্গলবার) সকালে সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুরের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম প্রধান সম্মানিত অতিথি ছিলেন। কেসিসি, কেডিএ, কেএফডব্লিউ ও প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (KfW) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেড আরবান ডেভেলপমেন্ট (CCAUD) ফেজ-২’’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় নগরীর ভূমি ব্যবহারের সঠিক নকশা, আবাসন নীতি ও উন্মুক্ত স্থানকে কিভাবে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজে লাগানো যায়—এ ধরনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভাপতির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বলেন, নগরীর উন্নয়নের কাজ কেসিসি ও কেডিএ একসঙ্গে করছে এবং এর জন্য ভূমির যথার্থ ব্যবহার অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিকর; সেজন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
প্রশাসক আরো বলেন, নগরীতে সরকারি মালিকানাধীন অনেক জমি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় অপরিচ্ছন্নতা তৈরি হয়েছে। তিনি রাজধানীর হাতিরঝিলের উদাহরণ টেনে বলেন, যদি যথাযথ পরিকল্পনায় এসব ফাঁকা জায়গাকে কাজে লাগানো হয় তাহলে শহরের নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শহরের সীমানা সংলগ্ন খালগুলোতে ছোট ছোট ব্রিজ নির্মাণ এবং যে কোনো সড়ক ও আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে ড্রেন নির্মাণকে অনুষঙ্গ করতে হবে—এ বিষয়েও তিনি জোর দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়; সংস্থাগুলো পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক—একসঙ্গে কাজ করলে শহরকে বাসযোগ্য করা কঠিন কিছু নয়।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম বলেন, নগরীর আবাসন সংকট নিরসনে কেডিএ এখন পর্যন্ত প্রায় ১০টি আবাসিক এলাকায় মোট প্রায় ৪ হাজার প্লট বরাদ্দ করেছে। সংস্থাটি নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে বাড়ির নকশা অনুমোদন করে থাকে এবং সম্প্রতি নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিটি বাড়িতে সোলার সিস্টেম স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি জানান, নিরালা দিঘীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ ও ওয়াকওয়ে, এবং দৌলতপুরে কল্পতরু মার্কেট ভেঙে মিনি স্টেডিয়ামের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মহানগরীকে বাসযোগ্য করতে হলে দখল হওয়া স্বাভাবিক খাল পুনরুদ্ধার করা ছাড়া বিকল্প নেই—এ জন্য সিটি কর্পোরেশনকে এগিয়ে আসতে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন কেসিসি ও কেডিএ যৌথভাবে কাজ করলে শহরকে আরও বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম ও KfW’র আরবান সেক্টর স্পেশালিস্ট শেখ তৌহিদুর রহমান। সিসিএইউডি প্রকল্পের আন্তর্জাতিক টিম লিডার শেখ মোহাম্মদ মেহেদী আহসান কর্মশালার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন এবং প্রকল্প পরিচালক ও কেসিসি’র চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার স্বাগত বক্তৃতা করেন।
উল্লেখ্য, সিসিএইউডি প্রকল্পের অধীনে নগরীতে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্পে দৌলতপুর ও মহেশ্বরপাশা শ্মশানঘাট এলাকায় নদীভাঙন ও বন্যা রোধে টেকসই ভেড়া বাঁধ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, শহরের চারটি প্রধান খাল পুনঃখনন ও দুই পাড় বাঁধাই ও সৌন্দর্যায়ন, প্রায় 17–23টি সরকারি পুকুর পুনঃখনন ও সংস্কার করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বজায় রাখা এবং সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক ও রূপসা নদীর সংলগ্ন ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়নসহ নতুন পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বায়ু-জল ও দৃশ্যমান পরিবেশকে রক্ষার লক্ষ্যে জলবায়ু সহনশীল পার্কও নির্মাণ করা হচ্ছে।





