বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফাইনাল সরাসরি দেখেছেন প্রায় ৬৩ মিলিয়ন দর্শক

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ হার দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটল। মেগা ফাইনাল কেবল মাঠেই উত্তেজনা সৃষ্টি করেনি—আমেরিকার সম্প্রচার ইতিহাসেও এটি এক নতুন মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৩ মিলিয়ন টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং দর্শক ফাইনালটি সরাসরি দেখেছেন।

ইংরেজি ভাষার চ্যানেল ফক্সে ম্যাচটি দেখেছেন প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ দর্শক, আর স্প্যানিশ ভাষার চ্যানেল তেলেমুনদো ও তাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পিককে-এ মিলিয়ে খেলা দেখেছেন আরও প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ। দুই মাধ্যমের সংযুক্ত ভিউয়ারশিপ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৬২.৮ মিলিয়নে—যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রায় তিনগুণ (প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ) শোরুকি দর্শকের তুলনায় অনেক বেশি।

১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র-সহ (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে সকারের জনপ্রিয়তা আশ্চর্যজনকভাবে বাড়েছে। বর্তমানে শুধু সুপার বোলই (প্রায় ১২৬ মিলিয়ন দর্শক) আমেরিকার সর্বোচ্চ টেলিভিশন ইভেন্ট; বিশ্বকাপ এখন বেসবল ও বাস্কেটবলের প্রধান ফাইনালকেও ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, রাউন্ড অব ১৬-এ ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ দর্শক ছিল, যেখানে এমএলবি ওয়ার্ল্ড সিরিজের সপ্তম ম্যাচ দেখেছেন প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ এবং এনবিএ ফাইনালসের পঞ্চম গেম দেখেছেন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ।

সম্প্রচার স্বত্তের জন্য রাইটসের উপর বিনিয়োগও ছিল বিপুল—ফক্স প্রায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার) এবং তেলেমুনদো প্রায় ৬০ কোটি ডলার (প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার) খরচ করেছে বলে জানানো হয়। বিনিয়োগের সঙ্গে আয়ও দাপুটি ছিল: নকআউট পর্বে ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লট বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলারে (প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার), যেখানে সুপার বোলের ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম প্রায় ৮০ লাখ ডলার।

আরও একটি আয়বর্ধক উপাদান ছিল ম্যাচে চালু করা অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’—এই পানির বিরতিগুলো ম্যাচকে চারভাগে ভাগ করেছে এবং সম্প্রচারকারীদের জন্য অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দ্য হলিউড রিপোর্টারের খবরে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র হাইড্রেশন ব্রেকের বিজ্ঞাপন থেকেই ফক্স নেটওয়ার্ক অন্তত ২৫ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার) অতিরিক্ত আয় করেছে।

সুপার বোলের আদলেই এবার হাফটাইম শোতে বড় আকারের আয়োজন করা হয়েছে, যার ফলে প্রচলিত ১৫ মিনিটের বিরতি বেড়ে প্রায় ২৭ মিনিটে পৌঁছেছে। এছাড়া ফিফা এবার বিশ্বের চ্যাম্পিয়ন স্প্যানীয় ফুটবলারদের জন্য বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে—যা আমেরিকান ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গে মিলে একটি নতুন রীতি হিসেবে ধরা পড়েছে।

আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে। টাইমজোনের পার্থক্যের কারণে ভবিষ্যতে আমেরিকার দর্শকরা সব ম্যাচ এতই সুবিধাজনক সময়ে উপভোগ করতে নাও পেতে পারেন, তবু ২০২৬ বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রে সকারের জনপ্রিয়তাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে এবং দেশটিতে ফুটবলের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে।