সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি আজ বুধবার পল্লবী থানায় দায়ের করা হয়।
মামলা করেন গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তরুণীর সঙ্গে এমপির অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবাদ জানানো এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহকে কেন্দ্র করে গত ১৪ জুলাই হামলা ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। ঘটনার একদিনের মধ্যে অভিযোগের তেমন একজন—ওবায়দুরের চাচাতো ভাই—আদালতে হাজির করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম আমিনুর রহমান।
মামলা তদন্তকারী পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এসআই রাকিবুল হুদা আদালতে আমিনুরের বিরুদ্ধে বজায় রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এজাহারে বাদী ওবায়দুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকায় রোজ গার্ডেন টাওয়ারে বোনের বাড়িতে থাকতেন এবং গাজী নজরুলের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক স্বজনতার সূত্রে নজরুল ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে নজরুলের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে, যা প্রায়ই পরিবারে আলোচনার বিষয় ছিল।
বাদী জানান, তিনি বিষয়টি পরিবারের কাছে তুলে ধরা এবং নজরুলকে এমন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে এমপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে মগবাজারের এক চক্র এমপির ও তার ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেল শুরু করে। নজরুলের ধারণা, ওই ভিডিওগুলোই ওবায়দুর গোপনে ধারণ করে চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে—এ নিয়েই তাদের মধ্যে মনোমালিনী বাড়ে।
বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৪ জুলাই সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেকে নিয়ে আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমিনুর কৌশলে তাঁকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে সেখানে অন্য আসামিরা মিলে মারধর করে; একপর্যায়ে আমিনুর মেঝেতে ফেলে গলায় হাত দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। আক্রান্ত অবস্থায় ওবায়দুর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁর মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এজাহারে বাদী আরও জানান, হামলার পর থেকে আসামিরা বারবার তাকে যেখানে-ই পাবে সেখানে হত্যা করে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। সুরক্ষা সংকটের কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার তদন্ত চলছে।





