শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল পুনরায় হওয়ার দাবিতে ৬২ হাজারের বেশি স্বাক্ষর

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল বিতর্ক থামছে না। স্পেন ১-০ গোলে জিতে দেশে ফিরে মাদ্রিডে ছাদখোলা বাসে বড় উদযাপন করেছে, খেলোয়াড়দের আলাদাভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। তবু অনেকে চান যে নির্ধারণী এই ফাইনালটি পুনরায় আয়োজন করা হোক — এমন দাবির পক্ষে হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে স্বাক্ষরও করেছেন।

চেঞ্জ.অর্গ ওয়েবসাইটে গিজেলা সানচেজ নামে এক সমর্থক ২০২৬ বিশ্বকাপের ওই ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, নিউ জার্সিতে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের কিছু সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল প্রভাবিত করেছে। এই অভিযোগের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

সানচেজ তার পিটিশনে রেফারির সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করারও অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি বলে খবরে বলা হয়েছে।

বিশেষত আইনি দিক থেকেও এই ধরনের দাবির কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। ক্রীড়া আইনে এমন কোনো ধারা নেই যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের নির্দেশ দেয়; সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্তই নির্ধারণক হয়। ফলে ফিফা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফল বদলে বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজন করবে বলে বলা কঠিন।

ফাইনালে হেরে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ হলেও তাদের পথ আগে ছিল প্রশংসনীয় — ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ হিসেবে টানা ১৩ ম্যাচ জিতে তারা ফাইনালে পৌঁছায়। আর্জেন্টাইনের খেলোয়াড়রা—বিশেষত গোলরক্ষক এমিলিও মার্তিনেস—স্পেনের অনেক আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন, তবু আক্রমণ গড়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা, যা অনেক সমর্থকেরই উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্পেন ১-০ গোলে জয়ী হয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ ফের জিতেছে; আগে ২০১০ সালে তাদের একমাত্র শিরোপা হয়েছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন, ইতালি ও জার্মানি চারটি করে, আর্জেন্টিনা তিনবার এবং উরুগয়ে দুইবার।