পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে গত এক বছরে ব্যাপক সাঁড়াশি ও টহল অভিযানের ফলে ২৯৪টি মামলায় মোট ৩৯৬ জন বন-অপরাধী গ্রেফতার করা হয়েছে। বন বিভাগের দাবি, ধারাবাহিক নজরদারি ও বিশেষ অভিযানেই গতিশীলভাবে বন অপরাধের মাত্রা আগের তুলনায় অনেকাংশে কমেছে।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম ও শিকারি সামগ্রী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী জব্দ আছে ৫৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস, ২২টি ট্রলার, ৩৪৯টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার (আটন) ফাঁদ, ৯৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া।
সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে ৮৭ বোতল অবৈধ কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে এবং বিষ সংক্রান্ত ৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ও কাঁকড়া আহরণের অপরাধে ১০৬টি মামলা হয়েছে। মামলার ধরনে থাকছে P.O.R ৮৪টি, C.R ৪টি ও UDR ২০৬টি। এ সময় পলাতক আসামি হিসেবে আছে ৬৩ জন।
বন বিভাগের তৎপরতায় একটি বিশেষ নজরদারি তালিকায় রাখা হয়েছে ১৩৫ জন সন্দেহভাজন; তাদের ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখার ফলে পুনরাবৃত্তি অনেকাংশে কমছে। সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযানে ২০৩ কেজি মধু এবং অন্যান্য অবৈধ জাল-পতনও চালান থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, স্মার্ট টহল টিম ও বিশেষ টহল মোতায়েন, ফুট পেট্রোলিং এবং পর্যাপ্ত টহল কার্যক্রমের কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জেলেদের মাঝে আগ্রাসী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অভিযানে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, হরিণ শিকার ও বিষ প্রয়োগ বন্ধ করতে সমাজভিত্তিক আন্দোলন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন।
কয়রার কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ. ব. ম. আঃ মালেক বলেন, জনসচেতনতা বাড়ালে সুন্দরবনের অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বন বিভাগের স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা আর জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে অপরাধ দমনে সুফল মিলছে।
পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, দুর্যোগসঙ্কুল বনে পায়ে হেঁটে ও নৌযানে টহল, পাশাপাশি ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্তকরণ ও অভিযানে সফলতা এসেছে। তবু জনবল সংকট ও আধুনিক জলযানের ঘাটতির কারণে বন রক্ষায় কর্মীরা কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।
বন বিভাগের তরফে বলা হয়েছে, চলমান কৌশল ও স্থানীয় জনজাগরণ বাড়ালে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষা আরও শক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করলে বন সুরক্ষায় স্থায়ী ফল আশা করা যাচ্ছে।





