বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে জানাল পরিবারের ধর্মঘোষণা

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সংগীতজগতে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে। দীর্ঘ আট দশকের জনপ্রিয়তা ও অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি কোটি ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। মহাকাব্যিক এই শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যু রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হাসপাতাল ও পরিবারের নিশ্চিত করেছেন যে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কারণে এই বিশিষ্ট শিল্পী প্রয়াত হন।

আশা ভোঁসলে এর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, তাঁর শেষকৃত্য আগামী সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “মা আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সকালে তিনি তাঁর নিজ বাসভবন ‘কাসা গ্রান্দে’তে (লোয়ার প্যারেল) মরদেহ রাখা হবে, যেখানে ভক্ত ও গুণগ্রাহীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর বিকাল ৪টায় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।”

আশা ভোঁসলের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। এক Notification অনুসারে, তিনি মিনার কুমারী, মধুবালা, কাজল এবং ঊর্মিলা মাতন্ডকরের মতো নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গজল, পপ, ক্যাসিকাল—সব ধরনেই তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। ১৯৪৩ সালে সংগীতের জগতে পা রাখা এই শিল্পী অসাধারণ গানের জন্য পরিচিত ছিলেন— যেমন ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তুমি আজা’, এবং ভিন্নধর্মী জনপ্রিয় গান ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’। গিনেস বুকে বিশ্বসেরা সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে তাঁর নাম।

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান স্বীকৃতিস্বরূপ, তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার এবং পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। এই কিংবদন্তি গায়কের মৃত্যু বাংলা সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ও অমূল্য সমৃদ্ধির হার।