বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’ — আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোক

ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উপমহাদেশের আরেক কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মুঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”

নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্মরণ করে রুনা লায়লা আরও বলেন, “তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব—আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।”

রুনা লায়লা শেষ মর্মে বলেন, “যদি তখনই দিদিকে ফোন করে আলাপ করতাম, হয়তো এই আফসোসটা এত গভীর হত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।”

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান ছিল। হাজার হাজার গান ও অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার প্রয়াণের সঙ্গে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা অনুভব করেছিলেন। তখনই তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসতে পারেননি।