প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ লাখ নতুন সরকারি কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন দফতর ও সংস্থাগুলোর শূন্যপদে ইতোমধ্যে ২৮৭৯ জনের নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিতভাবে এ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা ও প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
তিনি দেশের প্রযুক্তি খাতের উত্তরণের জন্য হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টার গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পেপালের কার্যক্রম চালু করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশে ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ক্রীড়াভাতা চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে। প্রাথমিক পর্যায়ে, একসঙ্গে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদ এই ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ইতোমধ্যেই ভাতা পেয়েছেন।
অন্যদিকে, বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়ার আগে থেকেই ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে, প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা ও মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সরকার পরিচালিত ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির’ আওতায় ৩ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষক কাজ করছেন, এবং এরইমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদেরও এই প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের উত্তরে, তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন শ্রমবাজার খোঁজে সরকারের পরিকল্পনা বেশ স্পষ্টভাবে প্রস্তুত। এর অংশ হিসেবে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করার পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন দূতাবাসকে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও পেশাগত চাহিদা নিরূপণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু দেশের সঙ্গে যেমন সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়ার সঙ্গে এই ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও চলমান।
এছাড়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কাজ করছে সরকার। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের সফর এবং সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ মানুষের জন্য ই-হেলথ কার্ড প্রদান প্রকল্পের আওতায়, ১৮০ দিনের মধ্যে সহযোগিতা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য একটি অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে, যার মাধ্যমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ এখন থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে সহজে চিকিৎসা সেবা পাবেন।





