বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জ্বালানি সংকটে দুই বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের চলমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে দুই বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ সচিবালয়ের দফতর থেকে এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস আয়োজিত অনলাইন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘‘জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে’’ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানান।

চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই সংকট পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে; একাই কোনো দেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রাদেশিকভাবে সমন্বিত, দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরবরাহ বিঘ্নের সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকে প্রভাবিত করছে এবং এই প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কিছু স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা, পাশাপাশি ভোক্তা সুরক্ষার জন্য রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান আগাম সতর্ক করে বলেন, সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকে উন্নয়ন কাজকে স্থবির করে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নের যেসব অর্জন রয়েছে, সেগুলো পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এই সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একাই এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ অপরিহার্য।

সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন; সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

প্রধানমন্ত্রী বিকেলে সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।