সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শেষ মুহূর্তে চাপ বাড়লেও অভিজ্ঞতা ও লড়াকু মানসিকতায় টাইগ্রেসরা ম্যাচ নিজের করে নেয় এবং সিরিজে ১-০ liderança নিয়ে এগিয়ে যায়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে ২০৫ রান। দলের হয়ে হানসিমা করুণারত্নে ৭১ বলে ৫৪ ও ইমেশা দুলানি ৭৭ বলে ৫২ রান করেন। কাভিশা দিলহারি ৩৮ বলে ৩০ এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা ৪১ বলে ২৭ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের জন্য রিতু মনি সবচেয়ে সফল বোলার; তিনি নেন ৩ উইকেট। নাহিদা আক্তার পেয়েছেন ২টি উইকেট, আর সোবহানা মোস্তারী, রাবেয়া খান, সুলতানা খাতুন ও মারুফা আক্তার নেন একজন করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই ধাক্কা খায়। মাত্র ১ রানে ওপেনিং জুটির একটি ভেঙে যায়; শারমিন সুলতানা ৩ বলে শূন্য রানে ফিরেন। দ্রুত আরও এক উইকেট হারায় দল—জুরাইরিয়া ফেরদৌস ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন।

তবে এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার (সুপ্তা) জায়গা দাঁড় করান। জ্যোতি ২৯ বলে ১৩ রান করে তখনই ফিরলেও, ক্রিজে এসে সোবহানা মোস্তারী যোগ দেন এবং শারমিনের সঙ্গে ভালো জুটি গড়েন। শারমিন অস্থির শুরু কেটে ফেলে ক্যারিশম্যাটিক ইনিংস খেলেন—তিনি ফিফটি তুলে নেন ও সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন।

সোবহানাও দিনটি ঠিক রাখতে পারছিলেন না, ৫৬ বলে ৪১ রান করে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। শারমিন ও স্বর্ণা আক্তারের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে; দল ১৯৯ রানে পৌঁছালে হঠাৎ ধস নামে। দীর্ঘ ১২৭ বল খেলে ৮৬ রান করা শারমিন আউট হলে উভয় পা মাটিতে কি টান পড়ে। পরেই ৪৮ বলে ৩৫ রান করা স্বর্ণাও ফিরে যান।

এরপর রিতু মনি ও রাবেয়া খানও দ্রুত আউট হলে ম্যাচ আবার কমিশনে যায়। শেষ ৩ ওভারে মাত্র ৫ রান দরকার ছিল, কিন্তু লঙ্কান বোলাররা টাইট লাইন-লেংথে বোলিং করে রান তোলা কঠিন করে তুলে দেন।

চাপে থাকা মুহূর্তে সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার একপ্রকার ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে অপরাজিত রয়ে জয় নিশ্চিত করেন—নির্ধারিত লক্ষ্য they পূরণ করে ৯ বল বাকি রেখে। নাহিদা ৭ বলে ৩ অপরাজিত এবং সুলতানা ১ বলে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে দেওমি ভিহঙ্গ চাপিয়ে তিনটি উইকেট নেন, মালকি মাদারা পেয়েছেন ২টি, আর নিমাশা মীপাগে ও ইনোকা রানাবীরা একজন করে উইকেট নেন। বাংলাদেশের পথে থাকা জয়ের নায়ক ছিল দলগত লড়াকু মনোভাব ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়া ব্যাটসম্যানরা—এবার সিরিজে চলছে তাদের দাপট।