সংক্ষিপ্তভাবে: সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার উদ্যোগের আগে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে কড়া বা উত্তেজক ভাষা পরিহার করার জন্য সতর্ক করেছে। ইসলামাবাদ এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার সফলতা লক্ষ করছে।
আলোচনার পটভূমি
যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও বৈঠক কখন শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান দ্য ওয়াশিংটন পোষ্টকে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্পকে সংযত ও কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহারের অনুরোধ জানায়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকে দুইপক্ষের মধ্যে সফল আলোচনা চান। ইসলামাবাদ সূত্রে পাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পকে জনসমক্ষে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা বা বাগাড়ম্বরপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে আলোচনার পরিবেশ ভাঙে না।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও সময়সূচি
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি বলেন পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে এবং আগামীকাল বা পরদিনের মধ্যে তেহরান থেকে একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নিতে পারে।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে, যাতে উত্তেজনা বিবর্তিত হওয়ার আগেই কূটনৈতিক পথ খোলা থাকে।
ট্রাম্পের অবস্থান
একদিকে ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়ো করবেন না, আবার একই সঙ্গে দাবি করেছেন দ্রুত একটি চুক্তি হবে এবং তা ২০১৫ সালের জেসিপিওএ এর চেয়েও ভাল হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে সংযুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা ত্যাগ করতেই হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই; চুক্তি না হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে সতর্কও করেছেন।
তেহরানের শর্ত
অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা কোনো আলোচনা শুরু করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করছে।
সম্ভাব্য ফলাফল
পেশাগত কূটনীতি ও সংযত ভাষা প্রয়োগ যদি বজায় থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উভয়পক্ষের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এই মুহূর্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টায় পরিণত হয়েছে।





