সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আমরা যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিই না; আমাদের প্রস্তুতির লক্ষ্য হলো দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া। কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য — এই ভাবনাই তার বক্তৃতার মূল ভিত্তি ছিল।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’–এর সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন সপ্তাহব্যাপী কোর্সটি ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছে এবং এতে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন; তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরাও ছিলেন।
সেনাপ্রধান জোর দিয়েছেন যে দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নেরও গুরুত্ব তুলে ধরেন — দক্ষ নৌ ও বিমান শক্তি না থাকলে আন্তর্জাতিক মেরুদণ্ড ধরে রাখা কঠিন হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পার হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি না হওয়ার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। দেশে মাত্র একটিই রিফাইনারি থাকায় চাহিদা মিটতে অল্প পরিমাণ তেল পরিশোধন করা সম্ভব হয় এবং বাকি জ্বালানি বহুমূল্যে আমদানি করতে হয়।
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবও স্মরণ করিয়ে দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অঞ্চলের সঙ্কট সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব পড়ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে তিনি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এর স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তা খাত—সকলকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এনডিসিতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানও কোর্সের অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আন্তঃক্ষেত্রীয় সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তোলার গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে একক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।





