সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লিটন: সাকলাইনকে অলরাউন্ডার হিসেবে দেখতে চাই

নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বিশ্রাম পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন নবীন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডলকে—এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মূলত ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প তৈরি এবং রিজার্ভ শক্তি গড়ার চিন্তা থেকেই।

সিরিজ শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েস্টি অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, মুস্তাফিজুরের মতো বোলারের বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। তবে যদি কোনো কারণে তারকা পেসারদের চোট বা অন্য কারণে বাইরে থাকতে হয়, তখন কাউকে খেলাতে হবে; এজন্যই নতুনদেরকে অভিজ্ঞতা দিয়ে গড়ে ওঠানোর কাজ চলছে।

লিটন আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে আমাদের বোলিং বিভাগ ভালো অবস্থায় আছে। মুস্তাফিজুরই সবচেয়ে আলাদা, তার শূন্যতা পূরণ করা কঠিন। তবু যত বেশি ম্যাচ খেলবে খেলোয়াড়রা, ধীরে ধীরে উন্নতি করবে এবং হয়তো মুস্তাফিজুরের কাছাকাছি দেখা যাবে।

লিটনের দৃষ্টিতে সাকলাইন কেবল পেসার নন—তাকে তিনি অলরাউন্ডার হিসেবে দেখছেন। সর্বশেষ বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে সাকলাইন ৯টি ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন; ব্যাট হাতে ৪ ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৪ রান। এই পারফরম্যান্সই তাকে নজরে এনেছে এবং লিটন চান ধীরে ধীরে তাকে দলে রেখে গড়বে যেন ভবিষ্যতে প্রয়োজনে তিনি দলের কাজে লাগতে পারেন।

লিটন বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে সাকলাইন একজন অলরাউন্ডার। হয়তো এখনই সে মুস্তাফিজুরের মতো হতে নাও পারে, কিন্তু টুয়েন্টি ফরম্যাটে এমন প্লেয়ারদের গুরুত্ব আছে। আমরা চেষ্টা করব তাকে সুযোগ দিয়ে ট্যুন্ড করে তোলার।’

ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়লেও পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতেছিল। টি-টোয়েন্টিতে নামার আগে লিটন নিউজিল্যান্ডকে যথেষ্ট শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কিউইরা গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছে; যদিও তাদের দলে তরুণরা রয়েছে, নেতিবাচক দিক নেই।

লিটন আরও যোগ করেন, নিউজিল্যান্ড বড় একটি দল, তাদের রেকর্ড সবসময়ই গরত্বের। এমন বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা মানেই সতর্কতা ও ভালো পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই ফরম্যাটে দুজন বা তিনজন খেলোয়াড় ভালো করলে ম্যাচ বদলে যেতে পারে, তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য আগের মতোই সতীর্ণ ক্রিকেট খেলা এবং নিজেদের সেরাটা দেয়া।

সংক্ষেপে, দলের ম্যানেজমেন্ট এখন ঝুঁকি নিয়েই নতুন তরুণদের নিয়মিত ম্যাচ অভিজ্ঞতা দিচ্ছে—একদিকে সিরিজে ভালো করার চিন্তা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করাই তাদের পরিকল্পনা।