রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ ড্র করল নিউজিল্যান্ড

চট্টগ্রামের বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ ড্র করেছে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় টেস্ট নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজে কিউইরা শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ এ আটকে দিল। বৃষ্টি আক্রান্ত ম্যাচটি ১৫ ওভারের করে নেওয়া হয়েছিল এবং বাংলাদেশের শরেফুল ইসলামকে ছাড়া ব্যাটিং ব্যর্থতাই ছিল ম্যাচের মোড় ঘড়ানো মূল কারণ।

বিপক্ষে ১০৩ রানের টার্গেট রাজ্য করে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে টাইগার্সরা। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন লড়াই করার চেষ্টা করলেও ধারাবাহিক আঘাত সামলে রাখতে পারেননি। দ্রুতই তিন ওপেনার ফিরলে চাপ বাড়ে; সাইফ ১০ বলে ১৬ রান করে জেইডন লেনক্সের বলে আউট হন, তানজিদ ১০ বল করে ৬ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের বলে ফিরে যান, আর পারভেজ ইমন কেবল এক বল খেলে বিদায় নেন।

লিটন দাস মাঝের সময় কিছু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে তোলার চেষ্টা করলেও বৃষ্টি প্রভাব ফেলায় খেলা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে লিটন আউট হয়ে গেলে (১৭ বলে ২৬) বাংলাদেশ আরও সংকটকালে পড়ে। তাওহিদ হৃদয় কিছুটা লড়াই দেখান—২৪ বল থেকে ৩৩ রানে ফিফটি না হলেও দলের সংগ্রহ বাড়াতে চেষ্টা করেছিলেন—তবুও দলের মধ‍্যমপন্থা ভেঙে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে সব পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানে থামে।

নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও টাইগার ব্যাটিং যথেষ্ট বড় সংগ্রহ করতে না পারায় কিউই বোলিং ও মিডল-অর্ডারে সহজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। মিলিতভাবে ফিরে এসেছে শরিফুল ইসলাম ও শেখ মাহেদীর আগুন—বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ভারতের মতো সাড়ে কথা বললেন। ম্যাচের শুরুতেই তিনি কেটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে তুলে দিলে কিউইদের উইকেটপতন শুরু হয়; একই ওভারের মধ্যে টিম রবিনসনকেও বোল্ড করে তৃতীয় উইকেট নেন শরিফুল। কয়েক বলের মধ্যে নেয়া ওই তিন উইকেট নিউজিল্যান্ডকে নড়বড়ে করে তুলে। মেহেদি বা মেহেদিও (বোলিং লাইন-আপ থেকে) পরে নিক কেলিকেও ঢোকান, ফলে কিউইরা ৩৩ রানে ৪ উইকেটে পড়ে যায় এবং বাংলাদেশের জয় আশা জাগে।

তবে এরপর দলের ভাগ্য বদলে দেন বেভান জ্যাকবস। ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গে মিলে তিনি একটি জোড়াদার অটুট জুটি গড়েন—দুইজন মিলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন যোগ দিয়েছেন—যেটি কিউইদের জয় নিশ্চিত করে। বেভান জ্যাকবস মাত্র ৩১ বলেই অপরাজিত ৬২ রান করে ম্যাচটিকে সিদ্ধান্ত রূপে পরিণত করেন; তাঁর ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৩ ছয়। অপরপ্রান্তে ফক্সক্রফট ১৫ বল থেকে অপরাজিত ১৫ রান করে। ৪.২ ওভার হাতে রেখে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করে ছয় উইকেটে জয় প্রাপ্ত হয়।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের ইনিংসে দ্রুতীয় উইকেটপাত ও বৃষ্টি-প্রভাব ম্যাচের রঙ পাল্টে দেয়। শুরুতে কিছু আক্রমণাত্মক ইঙ্গিত মেলে সাইফ ও লিটনের ব্যাটিংয়ে, কিন্তু ধারাবাহিক উইকেট হারায় তারা বড় স্কোর গড়তে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের শুরুতেই গভীর সমস্যা থাকলেও জ্যাকবস ও ফক্সক্রফটের যোগ্য জুটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি কিউইদের দিকে টেনে নেয়।

এই জয়টিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজ টার্ন আউট করে ১-১ ড্র করলো, কারণ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল এবং সিরিজ তিনটি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথমটি জিতেছিল।