বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

হোয়াইট হাউস মনে করছে, এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকই ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ করে দিতে পারে। ওই স্মারকের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি বিস্তারিত আলোচনার কাঠামোও স্থাপন করা হবে — এ খবর বুধবার (৬ মে) প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

সংবাদটি বলছে, দুই পক্ষ যদি ঐ স্মারকে সম্মত হয়, তাহলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেবার কথাও ভাবছে।

তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সম্মতি হয়েছে বলে বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন ইস্যুতে যে আপোষ হয়েছে, সেগুলো মিলিয়ে এখন পরিস্থিতি সামান্য হলেও সুষ্ঠুভাবে এগোচ্ছে — তথাপি মূল বিরোধগুলো মুছে যায়নি। স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়িত হবে কীভাবে তা এক চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে; যদি তা ব্যর্থ হয়, পরিস্থিতি পুনরায় জটিল বা তীব্র হলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

এক্সিওসকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানি নেতৃত্ব আদেশে কিংবা নীতিগত একমত না হওয়ায় চূড়ান্ত সম্মতি টানাটানির মধ্যে পড়তে পারে। ফলে এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটিও শেষ পর্যন্ত না হতে পারে বলে তারা সন্দিহান।

সমঝোতা স্মারকটি এক পৃষ্ঠার একটি খসড়া যাতে মোট ১৪টি দফা আছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জার্ড ক্রুসনার। মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ট্রাম্প হরমুজে নতুন কোনো অভিযানের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মারক গ্রহণ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে এবং এরপর ৩০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার সময়সীমা শুরু হবে। ওই সময়ে হরমুজ খোলা রাখা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য আলাপচারিতা চলবে। সেই আলোচনা হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

আলোচনার ধাপগুলোতে ধীরে ধীরে ইরান হরমুজে আরোপিত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তি প্রদান করবে — তবে সবকিছুই পর্যায়ক্রমে হবে। আর যদি আলোচনাগুলো ভেস্তে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ বা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথে ফিরতে পারে।

তারা ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে সেটাও নিয়ে আলোচনা করছে; এ মুহূর্তে ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে এবং তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের রকমের শর্ত দিয়েছিল, কিন্তু ইরান প্রথমে মাত্র ৫ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল।

সমঝোতা স্মারকে ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে যে তারা কখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক সুবিধাগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনার সূচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র তত্ত্বাবধানে পরিদর্শন ও নজরদারি দিতে হবে।

আর এক বাবি হল সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের স্থানান্তর—এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা হতে পারে।

সূত্র: এক্সিওস