বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিরপুরে ‘প্রতিশোধ’ নয় — শ্রদ্ধা ও প্রস্তুতিই চান সালমান

রাওয়ালপিন্ডির দুর্দশাজনক স্মৃতি পাকিস্তানের কাছে এখনও কষ্টদায়ক। নিজেদের মাঠে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারানো, সিরিজ হাতে না থাকা ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য—এসব মিলিয়ে ২০২৪ সালের সেই সিরিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তবু মিরপুরে নতুন সিরিজ শুরুর আগেই পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সালমান আলী আগা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি অতীতকে ‘প্রতিশোধ’ কথায় টিকিয়ে রাখতে চান না।

মিরপুর টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে সালমান বললেন, ‘আমাদের দলে প্রতিশোধ-জাতীয় কোনো শব্দের সঙ্গে নিজেদের জড়াই না। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসে খেলেছিল, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’ তিনি বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও মানসিকতাকে সম্মান জানালেন।

সালমান মনে করিয়ে দিলেন, পাকিস্তান ধারণা করেছিল ঘরের কন্ডিশনে তারা সুবিধা নেবে। কিন্তু ম্যাচের ভেতরে বাংলাদেশ বারবার ফিরে এসেছিল—বিশেষ করে ২৬ রানে ছয় উইকেট হারানোর পরও লড়ে উঠে ম্যাচ জেতা ছিল তাদের দৃঢ়তার স্পষ্ট উদাহরণ। তাঁর কথায়, সেটিই বাংলাদেশের স্কিল ও মানসিক শক্তির প্রমাণ।

এই অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে আরও সতর্ক করেছে। সালমান বলেন, বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ‘আমরা কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেব না। প্রতিশোধ শব্দটা খুঁজব না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রক্রিয়া এবং আমরা কীভাবে খেলি,’ তিনি যোগ করেন। পাকিস্তানের লক্ষ্য এখন শুধুই জেতা নয়, জেতার অবস্থান থেকে ম্যাচ শেষ করা—আগের সিরিজে ঠিক এখানেই তারা ভেঙে পড়েছিল।

সালমান বাংলাদেশকে তিন বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে দেখছেন—ব্যাটিং, পেস বোলিং ও স্পিন। তাঁর মতে বর্তমান দল আগের দলের সঙ্গে বেশ কাছাকাছি এবং খুবই স্কিলফুল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এখনো খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, খুব স্কিলফুল। ব্যাটিং, পেস বোলিং, স্পিন—সব বিভাগেই তারা কভারড।’

পাকিস্তানের ব্যাটিং বিভাগেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। সালমান উল্লেখ করেছেন যে মিডল অর্ডারই দলের ইঞ্জিনরুম; সেখানে বাবর, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল আর নিজে সালমান অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছেন এবং এটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থিতি। তিনি আরও জানান, টপ অর্ডারে যেসব পরিবর্তন দেখা গেছে, সেগুলো মূলত ইনজুরি বা অনুপস্থিতির ফল।

ইমাম-উল-হকের দলে ফিরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন সালমান। ‘গত তিন-চার বছরে ইমাম টেস্ট ইউনিটের নিয়মিত অংশ ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও টেস্ট রান নিয়ে তিনি দলে ফিরছেন, যা আমাদের জন্য ভালো সুযোগ,’ তিনি বললেন।

তবে মিরপুরে কাজটা সহজ হবে না—এতথ্যটাও তিনি স্বীকার করলেন। বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাককে খুবই ভারসাম্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বাঁহাতি ও ডানহাতি পেসার আছে, গতি ও স্কিল আছে; এটি সম্ভবত তিনি দেখেছেন সেরা বাংলাদেশ আক্রমণ।

শেষ পর্যন্ত সালমান ও তাঁর দল স্ট্র্যাটেজি ও ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে খেলতে চান—যেতে পারলে ম্যাচ শেষ করা এবং ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিকেট উপস্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।